বাঙালির নববর্ষ-উৎসবের ইতিহাস কম প্রাচীন নয়। তবে এই নববর্ষকেন্দ্রিক উৎসব-আনন্দের পরিকল্পিত সূচনা বাংলা সন প্রবর্তনের সময় থেকেই। বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ রূপ ও জাতিসত্তার সংহত পরিচয় বহন করে চলেছে নববর্ষ-উৎসব। মূলত গ্রামকেন্দ্রিক কৃষিসমাজের আবেগ-অনুভূতি, আনন্দ-উৎসব, জীবন-জীবিকা, প্রয়োজন-উপযোগ- এ সবকিছু ছড়িয়ে আছে নববর্ষের ভেতরে। বাঙালির লোকজীবনের আর্থ-সাংস্কৃতিক রূপের প্রকাশ ঘটেছে হালখাতা, পুণ্যাহ, ভূমিকর্ষণ, লোকক্রীড়া, লোকবিনোদন ও সর্বোপরি বৈশাখী মেলা- এইসব লোক-উৎসবের অমলিন আনন্দে। উৎসবের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে তাই রবীন্দ্রনাথ যে কথা বলেছিলেন তা স্মরণ করতে হয় :'প্রতিদিন মানুষ ক্ষুুদ্র দীন একাকী কিন্তু উৎসবের দিন মানুষ বৃহৎ, সে দিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সে দিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।'
দুই.
বৈশাখী লোক-উৎসবের মূল কেন্দ্রে আছে আড়ং বা মেলা- এর স্মৃতির শেকড় ছড়িয়ে আছে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যের মাটিতে। বাঙালি জীবনের সঙ্গে মেলার যোগ অতি নিবিড় ও আত্মিক। লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতির সমন্বিত অন্তরঙ্গ পরিচয় মেলার ভেতর দিয়েই সার্থকভাবে প্রকাশিত। এই মেলা বা আড়ং-এর চালচিত্রের আভাস পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি থেকে। আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে তিনি বলেছিলেন : 'আমাদের দেশ প্রধানত পল্লীবাসী। এই পল্লী মাঝে মাঝে যখন আপনার বাড়ির মধ্যে বাহিরের বৃহৎ জগতের রক্তচলাচল অনুভব করিবার জন্য উৎসুক হইয়া উঠে, তখন মেলাই তাহার প্রধান উপায়। এই মেলাই আমাদের দেশে বাহিরকে ঘরের মধ্যে আহ্বান। এই উৎসবে পল্লী আপনার সমস্ত সংকীর্ণতা বিস্মৃত হয়- তাহার হৃদয় খুলিয়া দান করিবার ও গ্রহণ করিবার এই প্রধান উপলক্ষ্য। যেমন আকাশের জলে জলাশয় পূর্ণ করিবার সময় বর্ষাগম, তেমনি বিশ্বের ভারে পল্লীর হৃদয়কে ভরিয়া দিবার উপযুক্ত অবসর মেলা।'
তিন.
বাংলাদেশের মেলার ঐতিহ্য বহুকালের। কিন্তু তা যে কত পুরোনো, কবে এবং কীভাবে এর সৃষ্টি সে-সব তথ্য অজ্ঞাত। ইতিহাসও নীরব এ-বিষয়ে। মেলার আদিবৃত্তান্ত না-জানা গেলেও ধারণা করা চলে যে ধর্মীয় উপলক্ষেই এ দেশে মেলার জন্ম। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষ। কোনো কোনো লোকতাত্ত্বিক মনে করেন, গ্রামীণ মেলা ছিল জমিদারদের উদ্ভাবিত ও পরিকল্পিত। কেননা, এর সাহায্যে তারা রোজগার বাড়াতেন। অবশ্য জমিদারদের পাশাপাশি লৌকিক উদ্যোগের কথাও স্মরণ করতে হয়। মেলার এই সমাবেশ ও বিকিকিনির প্রাথমিক ধারণা সম্ভবত গ্রামীণ হাট থেকেই এসেছিল। সেই অর্থে হাটই মেলার আদিরূপ।
একসময় এ-দেশ ছিল মেলাময়। বারো মাসই কোনো না কোনো উপলক্ষে গ্রামে মেলা বসত। নানা উত্থানপতন ও অবক্ষয় সত্ত্বেও সে ঐতিহ্য এখনও বিলুপ্ত হয়নি। মেলা তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, রূপান্তরিত হয়েও বেঁচে আছে। নানা সংকট সত্ত্বেও শতবর্ষের ঐতিহ্য আছে, এমন মেলার সংখ্যা কম নয়। মেলা প্রবর্তনের ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষ ছিল। আর এই মেলার সর্বাংশই ছিল প্রায় গ্রামকেন্দ্রিক। এই যে প্রচলিত সব মেলা, তার শ্রেণীকরণের কাজটি সহজ নয়। তবুও চারিত্র্য-বিচারে মেলাকে মোটামুটি চার শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা চলে :১. ধর্মীয় মেলা, ২. স্মারক ও সাংস্কৃতিক মেলা, ৩. বাণিজ্যিক প্রদর্শনী মেলা, ৪. রাজনৈতিক মেলা। ভিন্ন বিবেচনায় আবার এই শ্রেণীবিভাগের পুনর্বিন্যাসও সম্ভব।
এবার মেলার ধরন-ধারণের পরিচয় নেওয়া যাক। বাংলাদেশে প্রচলিত মেলার সংখ্যা কত, তার সঠিক হিসাব পাওয়া ভার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা যে জরিপ চালায় (১৯৮৩), অসম্পূর্ণ হলেও তা থেকে সাধারণভাবে বাংলাদেশের মেলার সংখ্যা, প্রকৃতি ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী তার 'লোকসাহিত্য' নামের বইতে গ্রামীণ মেলার জেলাওয়ারি তালিকা প্রণয়ন করেছেন। জেলা গেজেটিয়ার ও নানা আঞ্চলিক ইতিহাস-গ্রন্থেও মেলার কিছু বিবরণ মেলে। ক্ষুুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার জরিপে মোট মেলার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ১০০৫। এসব মেলার প্রায় নব্বই ভাগই গ্রামীণ মেলা। সারা বছরই দেশের কোনো না কোনো স্থানে মেলা বসে ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে। এসব মেলার স্থায়িত্বও সমান নয়। এক দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত এর স্থিতিকাল। মেলার স্থান নির্বাচনে প্রাধান্য পায় নদীর তীর, গ্রামের বট-পাকুড়াশ্রিত চত্বর কিংবা খোলা মাঠ, মঠ-মন্দিরসংলগ্ন প্রাঙ্গণ, সাধু-সন্ত-ফকির-দরবেশের সাধনপীঠ বা মাজার, প্রসিদ্ধ পুণ্য 'থান' বা তীর্থক্ষেত্র। কখনও স্কুল-কলেজের চত্বর বা খেলার মাঠেও মেলা বসে। মেলা মানে উৎসব, বিকিকিনি, বিনোদন আর সামাজিক মেলামেশার এক উদার ক্ষেত্র। ধর্মাশ্রিত লৌকিক মেলার বহিরঙ্গে আছে ধর্মীয় উপলক্ষ ও প্রেরণা। কিন্তু এর অন্তরে-অস্তিত্বে মিশে আছে বিনোদন ও বাণিজ্যের ধারা। আসলে প্রায় সব গ্রামীণ মেলারই উৎস, উপলক্ষ ও প্রেরণার মূলে ধর্মীয় অনুষঙ্গ থাকলেও এর চারিত্র্য ধর্মনিরপেক্ষ; আর্থ-সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও পরিচালিত।
আমাদের দেশে বৈশাখী লোক-উৎসব ও মেলার ঐতিহ্য যথেষ্ট প্রাচীন। একসময় এই উৎসব ও মেলা গ্রামীণ পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ তা শহর-নগরেও প্রসারিত। ক্ষুুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা, পর্যটন করপোরেশন, বাংলা একাডেমি এবং লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত আয়োজনে বৈশাখী মেলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন প্রায় প্রতিটি শহরেই বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। দূর-মফস্বলেও এই প্রেরণার ঢেউ পৌঁছে গেছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলা নববর্ষ ও তার অনুষঙ্গে বৈশাখ মাসে দুইশটি মেলার আয়োজন হয়। আমাদের অনুমান, এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে পাঁচশ ছাড়িয়ে যাবে।
এখানে একটি কথা বলা আবশ্যক, শহরে-নগরে যে বৈশাখী লোক-উৎসবের আয়োজন করা হয়, তাতে শিক্ষিত ভদ্রজনের 'পান্তা-ইলিশ' খাওয়ার একটি পর্ব কিছুকাল থেকে শুরু হয়েছে। শিক্ষিতজনের এই 'বিচিত্র খেয়াল'কে কেউ কেউ এক ধরনের 'প্রহসন' বলেও মনে করে থাকেন। মেলার বহিরঙ্গের পরিচয়ের পর এবার অভ্যন্তরের খবর নেওয়া যাক। যে উপলক্ষেই মেলার আয়োজন হোক না কেন; পণ্য-পসার ছাড়া মেলার কথা কল্পনাই করা যায় না। গ্রামীণ বৈশাখী মেলায় ঘর-গেরস্তালির দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নারীর রূপসজ্জা-অঙ্গাভরণের বস্তু থেকে শিশু-কিশোরের আনন্দ-ক্রীড়ার উপকরণ ও রসনালোভন খাদ্য-খাবারের সমারোহ থাকে।
মেলায় এসে পসরা সাজায় কামার-কুমোর-ছুতোর-জোলা-কৃষাণ-কাঁসারু-বেদেনি-গালাইকর-হালুইকর। নানা পণ্যসম্ভারের সে এক বিচিত্র সমাবেশ! বিকিকিনির বিশাল হাট। দীনেন্দ্রকুমার রায় একশ বছরেরও আগের এক গ্রামীণ মেলার পণ্য-পসরা আর বিকিকিনির যে আকর্ষণীয় বিবরণ দিয়েছেন তার 'পল্লীচিত্র' গ্রন্থে, সেই ছবি কালান্তরে আজও ম্লান হয়নি :''দোকান পশারীও কম আসে নাই ...। দোকানদারেরা সারি সারি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্থায়ী চালা তুলিয়া তাহার মধ্যে দোকান খুলিয়া বসিয়াছে। ... এক এক রকম জিনিসের দোকান এক এক দিকে। কোথাও কাপড়ের দোকান, কোথাও বাসনের কোথাও নানাবিধ মনোহরী দ্রব্যের দোকান। এত রকম সুন্দর পিতল কাঁসার বাসন আমদানি হইয়াছে যে, দেখিলে চক্ষু জুড়ায় ...। কৃষ্ণনগর হইতে মাটির পুতুলের দোকান আসিয়াছে; নানা রকম সুন্দর সুন্দর পুতুল ...। জুতার দোকানে চাষীর ভয়ংকর ভিড় ...। কাপড়ের দোকান অনেক দেখিলাম। ... লোহা-লক্কড় হইতে 'ক্যাঁচকেচের পাটী' পর্যন্ত কত জিনিসের দোকান দেখিলাম ...। মিষ্টান্নের দোকানও শতাধিক। কাঁটাল বিক্রেতাগণ ছোটবড় হাজার হাজার কাঁটাল গরুর গাড়ীতে পুরিয়া বিক্রয় করিতে আনিয়াছে ...।''
চার.
উপলক্ষ যাই থাকুক না কেন, মেলার একটা সর্বজনীন রূপ আছে। মেলায় অংশগ্রহণ সম্প্রদায় বা ধর্মের ভিন্নতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কেননা, মেলার আর্থ-সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সবকিছু ছাপিয়ে প্রকাশিত। তাই মেলায় সম্প্রদায়নির্বিশেষে মানুষের আনাগোনা। মৈত্রী-সম্প্রীতির এক উদার মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে মেলা। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সকলেই আসে মেলায়। তাদের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা একটিই, তা হলো মেলা বা আড়ং দেখা। এর সঙ্গে অবশ্য জড়িয়ে আছে বিকিকিনির আশা আর বিনোদনের টান। গাঁয়ের বধূর ঝোঁক আলতা-সিঁদুর-স্নো-পাউডার-জলেভাসা সাবান, ঘর-গেরস্তালির টুকিটাকি জিনিসের প্রতি। আকর্ষণ তার যাত্রা বা সার্কাসের প্রতিও। আর শিশু-কিশোরের টান তো মূলত খেলনার দিকেই। মাটির পুতুল, কাঠের ঘোড়া, টিনের জাহাজ। মুড়ি-মুড়কি, খই-বাতাসা, কদমা-খাগড়াই, জিলিপি-রসগোল্লা- এসব খাদ্য-খাবারেও তার তো অরুচি থাকার কথা নয়। সবই তার চাই। সবার ওপরে 'তালপাতার এক বাঁশি'।
সবার চেয়ে আনন্দময়/ ওই মেয়েটির হাসি
এক পয়সায় কিনেছে ও/তালপাতার এক বাঁশি।
এরপর আসে মেলার বিনোদনের দিক। মেলায় আগত দর্শকদের মনোরঞ্জনের নানা ব্যবস্থা থাকে। নাগরদোলা, ম্যাজিক, লাঠিখেলা, কুস্তি, পুতুলনাচ, যাত্রা, কবিগান, বাউল-ফকিরি-জারিগান, বায়োস্কোপ তো থাকেই, কখনও কখনও সার্কাসের তাঁবুও পড়ে। সং-এর কৌতুক-মশকরা সারা মেলাকে মাতিয়ে রাখে। এর ওপরে আরও কিছু বাড়তি আনন্দ-ফুর্তির ব্যবস্থা থাকে- বারোবিলাসিনীর অন্তরঙ্গ সঙ্গলাভ- সেকালে এ সুযোগ অবারিত ছিল। একালে প্রকাশ্যে আর ঘটে না এ ব্যাপার। সেকালের অবিদ্যার ভূমিকায় এখন কখনও কখনও যাত্রা বা সার্কাসের মেয়েরা অবতীর্ণ হয়। তবে মাঝেমধ্যে দু-চারজন ভাসমান-ভ্রাম্যমাণ বারোবধূর সাক্ষাৎ মেলে মেলায়। মেলায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বসে তাড়ি-মদ আর জুয়ার আসর। এ নেশায় ডুবে সর্বস্বান্ত হতে হয় অনেককে। ঝুমুর গানে মেলার প্রসঙ্গে একটি মজাদার আবদারের কথাও এসে যায়- অবোধ অনুজ তার অগ্রজের কাছে দাবি পেশ করে : 'ও দাদা, পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে'। অনুজের ধারণা, মেলায় সব পণ্য পাওয়া গেলে 'বউ' কেন মিলবে না! তবে আমাদের বগুড়ার এক গ্রামে সত্যি সত্যি 'বউমেলা'রও আয়োজন হয়।
পাঁচ.
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার চালচিত্রও বদলেছে। গ্রামীণ মেলা রূপে ও মেজাজে অনেকখানিই পাল্টে গেছে। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও হিন্দুদের দেশত্যাগের ফলে অনেক মেলা বিলুপ্ত হয়েছে। কোনো কোনোটি হয়তো রূপান্তরিত হয়ে বেঁচে আছে। যেমন, সাতক্ষীরার পাঁচপোতা-রত্নেশ্বরপুর গ্রামে ইংরেজ আমল থেকেই চৈত্রসংক্রান্তিতে চড়কমেলা হতো। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর হিন্দুদের ব্যাপক হারে দেশ ছেড়ে যাওয়ার ফলে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই মেলাটি শেষ পর্যন্ত স্বল্পস্থায়ী বৈশাখী মেলায় রূপান্তরিত হয়।
অন্যদিকে অনেক গ্রামীণ মেলায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। বিজলিবাতি পৌঁছে গেছে গ্রামে; মেলাতেও। নতুন বিন্যাসের ছাপ আজ স্পষ্ট এসব মেলায়। দেশি-বিদেশি চোখ-ধাঁধানো বাহারি পণ্যের জৌলুসে কদর কমেছে কুটির শিল্পজাত গ্রামীণ পণ্যের। এই রুচির পালাবদল অবশ্য বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। স্বদেশি যুগেও গ্রামীণ মেলায় দেশি শিল্পের চাইতে জার্মানির চীনামাটির তৈজসপত্র, বিলাতি কাচ ও এনামেলের বাসন, বিলাতি ছাতার সমাদর ছিল বেশি। বিলাতি সিগারেট ও দিয়াশলাই স্থান দখল করেছিল দেশি তামাক ও চকমকির। এই পর্যবেক্ষণ দীনেন্দ্রকুমার রায়ের। একশ বছর পরে এই চিত্র যে আরও বদলে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক।
ছয়.
বৈশাখী-উৎসব ও সেই অনুষঙ্গে মেলা বাংলা নববর্ষের স্বতঃস্ম্ফূর্ত স্মারক। বর্তমানে বৈশাখী মেলার লৌকিক ধারা এসে মিশেছে নাগরিক প্রয়াসের সঙ্গে। বৈশাখী মেলা লোকধারার প্রেরণা নিয়ে নতুন আঙ্গিক ও মাত্রায় নগরজীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং ঐতিহ্যে পরিণত। বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা অন্বেষণে- বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপ উদ্ঘাটনে বৈশাখী-উৎসব ও মেলা আজ আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর প্রেরণা ও পাথেয় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক

বিষয় : মেলার অনুষঙ্গে বৈশাখ

মন্তব্য করুন