ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

নানকের বক্তব্য তার রাজনৈতিক অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ: জাসদ

নানকের বক্তব্য তার রাজনৈতিক অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ: জাসদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ১১:৪৭ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ১১:৪৭

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আড্ডাখানা হিসেবেই জাসদ গণবাহিনী গঠন করেছিল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।

শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষে দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, জাসদ নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য শুধুমাত্র নির্জলা মিথ্যাচারই নয়, তার রাজনৈতিক অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘জাসদ শতকরা একশত ভাগ মুক্তিযোদ্ধার দল। জাসদে কখনই খন্দকার মোশতাকের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসাতো দূরের কথা, কোথাও কোনো জায়গাও পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘জাসদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পথেই অগ্রসর হচ্ছিলো। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই নির্বাচনে জাসদের অনেক প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার পরও জাসদ দলীয় সংসদ সদস্যগণ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছিলেন। তৎকালীন সরকার জাসদের সংসদীয় বিরোধী দলীয় ভূমিকা সহ্য না করে জাসদের ওপর চরম রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন-নির্যাতন শুরু করে। ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ জাসদের শন্তিপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে রক্ষীবাহিনী গুলিবর্ষন করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জাসদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতা এবং একযোগে জেলা ও থানা পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আওয়ামী লীগ এর মিছিল থেকে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রাইভেট বাহিনী, পুলিশ, রক্ষীবাহিনী সারা দেশে জাসদের নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন-গ্রেপ্তার চালাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে জাসদের সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গণবাহিনী গঠন করতে বাধ্য হয়। গণবাহিনীর সদস্যরা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সুতরাং জাসদ ও গণবাহিনী নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য কেবলমাত্র নির্জলা মিথ্যাচারই নয়, এ বক্তব্য তার রাজনৈতিক অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।’

জাসদ বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ স্বতপ্রণোদিত হয়েই জাসদের সঙ্গে ঐক্যের রাজনীতির পথ গ্রহণ করেছিল। আওয়ামী লীগ এ পথেই জিয়ার সামরিক শাসন, এরশাদের সামরিক শাসন এবং পরবর্তীতে ২০০৪ সাল থেকে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে জাসদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যের পথে এগিয়েছে।’

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘জাসদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ঐক্যকে কখনই বিএনপি-জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি পছন্দ করেনি।’

জাহাঙ্গীর কবির নানকের উদ্দেশে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘নানক কি বিএনপি-জামায়াতকে খুশি করতে এবং জনননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় ঐক্যের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এধরনের মিথ্যাচার ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রদান করেছেন?’

আরও পড়ুন

×