ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে শোকজ

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে শোকজ

চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (ডানে)

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৫:০১ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৫:০১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে শোকজ করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির পূর্বের শোকজের জবাবের প্রতিফলন না হওয়ায় আবারও কারণ জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা চান এই দুই নেতা। 

আজ শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শোকজের বিষয়ে জানানো হয়। এতে শাখা ছাত্রলীগের এ দুই নেতাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ক্ষুণ্ন হওয়া গঠনতান্ত্রিক কার্যক্রমে ব্যত্যয় হয়েছে। পূর্বে প্রদানকৃত শোকজের জবাবের উপযুক্ত প্রতিফলন হয়নি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব আগামী সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।’

এর আগে গত ৫ ও ৬ জানুয়ারি পরপর দুদিন রাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল শাখা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এর প্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারি সাত দিনের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনার লিখিত জবাব চেয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। 

তবে লিখিত জবাব দেওয়ার পরেও বারবার সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার কর্মে জড়ায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

গত ২৩ জানুয়ারি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিতে আসা এক প্রার্থীকে মারধর, ৩০ জানুয়ারি সাবেক নেতাকে নিয়োগ না দেওয়ায় উপাচার্য কার্যালয় ভাঙচুর, শাটল ট্রেন অবরোধ ৩১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হট্টগোল এবং ট্রেন অবরোধ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিনিয়রের সামনে ধূমপান নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। এতেও আটজন আহত হয়েছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা ও সাংবাদিক হেনস্তা করে, ১২ ফেব্রুয়ারি সময় মতো খাবার দিতে না পারায় এক দোকানীকে মারধরের অভিযোগ উঠিছিল শাখা ছাত্রলীগের উপ মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক আলমের বিরুদ্ধে। 

সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি ও গতকাল শুক্রবার কক্ষ দখলের ঘটনায় সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

শোকজ ও সব সংঘর্ষ এবং বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘শোকজের ব্যাপারে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে লিখিত জবাব দেব। সংগঠনের নামে কেউ অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন। তারা সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেন না।’

রেজাউল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের একটি পক্ষ এসব সংঘর্ষের উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করে। 

আরও পড়ুন

×