ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

পদযাত্রায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

পদযাত্রায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

নীলফামারীতে শনিবার বিএনপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ - সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২২:৫৯

সারাদেশে সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে জেলা সদরে একযোগে পদযাত্রা কর্মসূচি দিলেও অনেক স্থানে করতে পারেনি বিএনপি। পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর বাধায় অন্তত ছয় জেলায় কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩১ জন। কর্মসূচি থেকে পুলিশ কমপক্ষে ১০৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর মধ্যে নীলফামারীতে বিএনপির মঞ্চ দখল করে ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে উল্লাসের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পদযাত্রার সময় অসুস্থ হয়ে উপজেলা সভাপতি আব্দুল জব্বার মারা গেছেন।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ ১০ দফা দাবির অংশ হিসেবে ৬৬টি সাংগঠনিক জেলা সদরে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। গতকাল ঝালকাঠির আমতলা সড়কের কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রায় বাধা দিলে বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে ওসি (অপারেশন) ফিরোজ কামাল, এসআই নজরুল, শফিকুলসহ পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে আহত হন অন্তত ৩০ নেতাকর্মী। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেনের অভিযোগ, বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। তবে ওসি নাসির উদ্দিন সরকার জানান, নৈরাজ্য প্রতিহতে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

বাগেরহাটে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে ৪০ নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ করেছে বিএনপি। পুলিশের দাবি, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। পরে নাশকতার মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এটিএম আকরাম হোসেন তালিম রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের মুনিগঞ্জে পদযাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। কর্মসূচি না করে ফেরার পথে পুলিশ প্রথমে তাঁদের ব্যানার কেড়ে নেয়। পরে শামীমসহ অনেককে আটক করে। এ ঘটনায় আর কোথাও পদযাত্রা করতে পারেনি বিএনপি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আসাদুজ্জামান জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দু'দলকে কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হলেও উপেক্ষা করে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয় বিএনপি। এ জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনায় পদযাত্রার চেষ্টাকালে ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড কেড়ে পুড়িয়ে ফেলে পুলিশ। পরে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ভোর থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী শহরে প্রবেশের পথে অবস্থান নিয়ে বাধা ও মারধর করে। ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার সাকের আহমেদ জানান, দু'পক্ষের উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। এ সময় ১২ জনকে আটক করা হয়।

যশোরে পদযাত্রা ঘিরে ৩৬ নেতাকর্মীকে আটকের দাবি করেছে বিএনপি। শুক্রবার রাতে সদর ও চৌগাছা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে পুলিশ। ধরপাকড়ের পরও গতকাল চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করে দলটি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি গতকাল বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা ও দেবিদ্বার সীমান্তের খাদঘর এলাকায় পদযাত্রা করতে গেলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামানসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।

চান্দিনা থানার ওসি সাহাব উদ্দিন খান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রার নামে মহাসড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সরিয়ে দিতে গেলে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও ৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়। উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ ও গুলি করেছে।

নীলফামারীতে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। জেলা পৌর সুপারমার্কেট এলাকায় দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে দু'পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে বিএনপির মঞ্চ দখল করে ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে উল্লাস করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির সভাপতি আ ক ম আলমগীর সরকার বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে মঞ্চ দখল করে আনন্দ-উল্লাস করে। ব্যানার ছিঁড়ে ও ১৫ জনকে জখম করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল শাহ আপেল বলেন, কর্মসূচির নামে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় বাধা দিয়েছি।

পিরোজপুরে পুলিশি বাধায় পদযাত্রা পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীর ধাক্কাধাক্কি হয়। পদযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন। পটুয়াখালীতেও পুলিশের বাধায় পদযাত্রা করতে পারেনি বিএনপি।

রাজবাড়ীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমের নেতৃত্বে পদযাত্রা বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে ফিরে যান।

পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় সিরাজগঞ্জে পদযাত্রা করতে পারেনি বিএনপি। শহরে দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। তবে সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিএনপি নিজেরাই কর্মসূচি স্থগিত করে।

চুয়াডাঙ্গায় পদযাত্রার সময় আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পদযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসিফা আশরাফী পাপিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সদর হাসপাতালের ডা. জুবাইদা জামান জয়া জানান, হার্ট অ্যাটাকে আব্দুর জব্বারের মৃত্যু হয়েছে।

নাটোর শহরের আলাইপুরে দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি ককটেলের বিস্ম্ফোরণ হয়েছে। মৌলভীবাজারে বিএনপি পৃথকভাবে পদযাত্রা করেছে। গতকাল শহরে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ পদযাত্রা করে।

এ ছাড়া গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাবনা, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, নওগাঁ, বরগুনা, নাটোর, মাগুরা, খুলনা, দিনাজপুর, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা শহরে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করেছে বিএনপি।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে সংশ্নিষ্ট ব্যুরো, অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি]

আরও পড়ুন

×