‘ছাত্রলীগ কাউকে নখের আঁচড়ও মারেনি’

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০১৮   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

গোলাম রাব্বানী

গোলাম রাব্বানী

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের কাউকে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কেউ নখের আঁচড়ও মারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। 

সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রামদা ও লাঠিসোটাসহ পুলিশের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম রাব্বানী বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতিকে নিয়ে গতকাল (রোববার) আমি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রোগ্রাম শেষ করে আমরা যখন ল্যাবএইড ক্রস করি, বিনা উসকানিতে অপরপ্রান্ত থেকে কিছু স্কুল-কলেজ ড্রেস পরা; যাদের প্রত্যেকের হাতেই অস্ত্র-সস্ত্র ছিল তারা ছাত্রলীগের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় আমাদের বহনকারী গাড়িতে আঘাত লেগে কাঁচ ভেঙে গেছে। তিনটা বাইক জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগের কেউ সেখানে ছিল না। আমরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছি। ছাত্রলীগের কেউ আক্রমণে ছিল না। অনেক অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারে যারা আমাদের মধ্যে মিশে আমাদেরকে বিতর্কিত করতে চায়। যদি এমন কেউ অনুপ্রবেশকারী থাকে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব। জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনই এগুলো বরদাস্ত করবেন না। এই ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, তারা কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না।

গণমাধ্যমে ছবি আছে সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যে তিনি বলেন, যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকে আমরা খোঁজ নিয়ে সত্য প্রকাশ করব এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাম রাব্বানী বলেন, আন্দোলন শুরু হয়েছে কিছু কোমলমতি শিশুদের আবেগ থেকে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ছিল। শুরুতে ছাত্রলীগ শতভাগ সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সর্বাত্মক ধৈর্য ধরতে। আমরা কোথাও কোনো ইউনিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হইনি, কোনো সংঘর্ষে যাইনি।

এ পর্যন্ত  তাদের ৭১ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, অনেকেই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। ১২-১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আন্দোলনের মধ্যে যারা দুষ্কৃতিকারী তারা ব্যাগের মধ্যে পাথর বহন করছে। কয়েকজন ছাত্রের ব্যাগে রিভলভার পাওয়া গেছে। এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান তাদের আবেগ নিয়ে আগুন-সন্ত্রাসীরা আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার স্কুল ব্যাগ, ভুয়া আইডি কার্ড নীলক্ষেত থেকে মিনি ট্রাকে ভরে এনেছে। শিবির এবং ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিব্রত করতে ছাত্রলীগের বদনাম করছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ছাত্রলীগের কোনো ইউনিট কোথাও যুক্ত হয়নি। যখন আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে তখন আমরা প্রতিরোধ করেছি।