রাজনীতি

দেশে রাজনৈতিক চিত্রের দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে: মওদুদ

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

সভায় বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ— ফোকাস বাংলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, 'দেশের সর্বক্ষেত্রে অরাজকতা দেখে মনে হয় অতি দ্রুত রাজনৈতিক চিত্রের পরিবর্তন ঘটবে। তবে কখন, কোথায়, কী ঘটবে তা কেউ জানি না। সময় এসেছে সক্রিয় ঈমানি ভূমিকা পালন করার। সবাইকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।'

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে 'শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা কেন' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, প্রকৃতির আইন নিজস্ব গতিতে চলে। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের কথা দু'সপ্তাহ আগেও কেউ ভাবেননি। আসলে কখন কী ঘটবে তা কেউ জানেন না। 

তিনি বলেন, 'সব কিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, কিন্তু কোনও সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো। কারা হামলা করেছে সবাই জানি কিন্তু কোনও গ্রেফতার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল, সোনা চুরি হলো, কয়লা চুরি হলো, পাথর চুরি হলো, কঠিন শিলা চুরি হলো, কিন্তু একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।'

সরকার একেবারে 'বেপরোয়া' হয়ে গেছে— এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'তারা বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে— এই উপলব্ধি তাদের মধ্যে এসেছে। এজন্য তারা এতো নিষ্ঠুর ও হিংস্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর তারা এজন্য অত্যাচার করছে।'

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের একজন তল্পিবাহক ব্যক্তি। বিবেকের তাড়নায় একটা সত্য কথা বলে ফেলেছেন। তার ওই বক্তব্যের সঙ্গে অপরাপর চার জন নির্বাচন কমিশনার দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না।'

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন।