রাজনীতি

অচিরেই সরকারকে বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে: রিজভী

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ভোটের আগের দিন রাতে ভোট ডাকাতি ও ভোট হরিলুটের মতো অপকর্মের জন্য অচিরেই সরকারকে বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের মানুষেরা সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। সরকার মনে হচ্ছে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভোটের আগের দিন অন্ধকার রাতে ভোট ডাকাতি ও ভোট হরিলুটের মতো অপকর্মের জন্য অচিরেই সরকারকে বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে।

তিনি বলেন, এত বড় ভুয়া ভোটের নির্বাচনের পরেও আত্মমর্যাদাহীন আওয়ামী নেতারা নির্বাচন নিয়ে নির্লজ্জ গলাবাজি করছেন। ভোটের আগের রাতে যেখানে ৩০-৫০ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়েছে, তাকে কি ভোট বলে? মহাভোট ডাকাতির যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখন সবার কাছে আছে। কেউই এই নির্বাচন মেনে নেয়নি। সুতরাং ওবায়দুল কাদের সাহেবরা কোনো সদুত্তর দিতে পারবেন না বলেই সংলাপে রাজি নয়। মহাডাকাতির ভোটের জবাব তাদের কাছে নেই।

প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’ করেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, যে দল ভোটে বিজয়ী হয়, সাধারণত তাদের কর্মীরাই উৎসব, ভোজ ইত্যাদিতে মেতে থাকে। আওয়ামী লীগ তো ভোটে বিজয়ী হয়নি, সেজন্য তাদের নেতা-কর্মীরা উৎসব করেনি। উৎসব করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি।

তিনি আরও বলেন, সরকার তথাকথিত হিংসা ও মহাজালিয়াতির নির্বাচনের বিনিময়ে দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করেছে। এখন সরকার দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। সারাদেশে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শারীরিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে এসে নিজ এলাকায় সমাজসেবা করতে গেলেও আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

এ সময় দেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, বিশ্বের দেশগুলোর গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বর্তমানে বাংলাদেশ পূর্ণ গণতন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অবস্থানেও নেই। বাংলাদেশের অবস্থান স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর সমপর্যায়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচনে বেশ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনে সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, বিরোধী দল ও প্রার্থীর ওপর সরকারি চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকেও বেশি খারাপ, বাংলাদেশে বর্তমানে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে, আইনের শাসন খুবই দুর্বল, সাংবাদিকেরা সব সময় হয়রানি ও চাপের মুখে থাকে এবং বিচারব্যবস্থাও স্বাধীন নয়।

বিষয় : বিএনপি রুহুল কবির রিজভী রিজভী