ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের বাঁচাতে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না: পদবঞ্চিতদের অভিযোগ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং অযোগ্যতার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে জানান, নানা অভিযোগের ভিত্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলো এবং পরবর্তীকালে যাচাই-বাছাই করে সেসব পদ পূর্ণ করা হবে। কোন ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তারা কারা এবং ঠিক কী কারণে তাদের পদ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। বারবার চেষ্টা করেও ওই ১৯ জনের নাম জানা যায়নি শীর্ষ নেতাদের কাছে। এ নিয়ে প্রশ্ন এখন সব মহলে, কী কারণে প্রকাশ করা হচ্ছে না ওই ১৯ জনের নাম?

সংশ্নিষ্টদের কাছে না মিললেও প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেছে নতুন কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে অসন্তুষ্ট এবং পদবঞ্চিত নেতাদের কাছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত ওই ১৯ নেতাকে বাঁচানোর জন্যই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই ১৯ জনকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

পদবঞ্চিত নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শুক্রবার ছিল তাদের কর্মসূচির ষষ্ঠ দিন। নতুন কমিটি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যান্টিনে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন পদবঞ্চিতরা। বিচারের দাবি ও বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ঈদের আগে নিজেদের অবস্থান এবং আন্দোলনের পূর্বাপর গণমাধ্যমকে জানাতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

এতে ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক উপ-সম্পাদক আল মামুন বলেন, 'যে ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিতর্কিতদের বাঁচাতেই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। কিন্তু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিতদের বাদ দিতে রাজি নন। তাই নাম প্রকাশ না করে ওই ১৯ জনকে বৈধতা দিতে চাইছেন তারা।' এর মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অমান্য করছেন বলে মন্তব্য করেন আল মামুন।

সাইফুর রহমান সোহাগ-এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বাধীন সদ্যবিদায়ী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঈদ করবেন বলেও জানান তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ছয় দিন ধরে আন্দোলনে আছি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কোনো নেতা আজ পর্যন্ত খবর নিতে আসেননি। নিজেদের এতিম মনে হচ্ছে। বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রানা হামিদ, সহ-সম্পাদক এস এম মামুন, ঢাবির জসীমউদ্‌দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান প্রমুখ।

বিষয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ