সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— ফাইল ছবি

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার উদাসীন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল এই অভিযোগ করেন। শুক্রবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেল ৪টা থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং একের পর এক জেলা বন্যাকবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য, সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা লক্ষ্য করছি না। সরকার চরম উদাসীন। তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।'

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে চলমান বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি সফল করতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী বন্যাকবলিত কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের যে জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই, এতেই তা প্রমাণিত। এখানে বিরোধী দলের তেমন কিছু করার নেই। তারা ত্রাণ কমিটি পাঠাতে পারে, সেখানে কিছু কিছু সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব বন্যাকবলিত মানুষকে রক্ষা করা। যেটা সরকার করছে না।

বৈঠকে দলের ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সদস্য সচিব ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। কমিটিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট জেলার নেতৃবৃন্দও থাকবেন। এই ত্রাণ কমিটি অবিলম্বে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

'আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ও করণীয় নির্ধারণ': আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আদালতের ভেতরে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, ছোট্ট শিশুর মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে, প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে এবং তারপর যে ঘটনাগুলো ঘটছে– যেমন, একজন প্রধান আসামি (০০৭ নয়ন বন্ড) তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলো। দেখা গেল সেই মামলার যে বাদী (আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি) তাকে আবার গ্রেফতার করা হলো। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়গুলো এক প্রকার এনার্কি বা নৈরাজ্য। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন।

তিনি বলেন, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে অজ্ঞাত সুব্রত বাইন পরিচয় দিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অহরহ ঘটছে এসব ঘটনা। অনেক মানুষই ভিকটিম হচ্ছেন, বিশেষ করে তুলে নিয়ে যাওয়া– এটা তো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কয়েকদিন আগে একজন র‌্যাব সদস্য তারই এক আত্মীয়ের সঙ্গে জমি সমস্যার কারণে তাকে গোয়েন্দা দিয়ে তুলে নিয়ে গেছেন এবং তাকে হত্যা করেছেন। দেশে আজকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারাই এখন সবচাইতে বেশি আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন।

আইন-শৃঙ্খলা অবনতি নিয়ে একটা জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে: ডেঙ্গু এখন ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয়নি। এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারির নিচে রাখছেন, কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি। এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি।'

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অন্তুর্ভুক্তির বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যার প্রধান হচ্ছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি।'