বন্যা মোকাবেলায় জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দিলেন ড. কামাল

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ড. কামাল হোসেন- ফাইল ছবি

বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে এবং বানভাসি মানুষকে বাঁচাতে জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, কিছু কিছু বিষয় জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা দরকার। এককভাবে সরকারের পক্ষে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে এখন জাতীয় সংলাপ অপরিহার্য। 

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বন্যার মতো বিষয়ে দলীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু এখনও এটা করা হচ্ছে না।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো উদ্যোগ আছে কি-না, জানতে চাইলে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট হয়েছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নয়- জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। এখানে কয়েক দলের ঐক্য নয়, সব দল ও জনগণের ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নানা টানাপড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে জোটটি এখনও টিকে আছে কি-না, জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে নির্বাচনকে সামনে রেখে। সেই মূল লক্ষ্য তো নিশ্চয়ই থাকবে। তবে এখন এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে ঐক্য গড়তে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বন্যা মোকাবেলায় ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- বন্যাদুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষধপত্র সরবরাহ, ত্রাণ কমিটি গঠন করে তৎপরতা চালানো. চরাঞ্চলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ করা, চিলমারী, রাজীবপুর, রৌমারী এলাকাসহ অধিকতর বন্যা আক্রান্ত উপজেলাকে দূর্গত এলাকা ঘোষণা এবং ভারত-নেপাল-ভুটান ও প্রয়োজনে চীনের সঙ্গে একত্রে কার্যকর আঞ্চলিক উদ্যোগে পানি সমস্যার সমাধান, নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।

আবু সাইয়িদ বলেন, ১৭ জুলাই থেকে গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আ আমিন কুড়িগ্রামে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত ১২ লাখ মানুষের জন্য দেড় সপ্তাহে সরকারের বরাদ্দ হচ্ছে জনপ্রতি এক টাকা ১২ পয়সা, ৬৬ গ্রাম চাল ও কিছু শুকনো খাবার। এটি রিলিফের নামে প্রহসন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মহসিন রশিদ, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেন, আমিন আহমেদ আফসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ ছিলেন।