রিজভীকে লাঞ্ছনা: ইন্ধনদাতা‌দের নাম প্রকাশ কর‌বে ছাত্রদল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিত করাসহ প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা। 

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনসহ সাত দফা দাবি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উত্থাপন করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা। তদন্ত কমিটি গঠনে বিলম্ব দেখে ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। 

ক্ষুব্ধ ছাত্রদ‌লের একা‌ধিক নেতা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় সার্চ কমিটিতে থাকা একা‌ধিক নেতাসহ বিএন‌পিরও সি‌নিয়র অ‌নেকের ইন্ধন ছিল যার প্রমাণসহ জনসম্মু‌খে প্রকা‌শ করা হবে। দু-এক‌দি‌নের ম‌ধ্যে সংকট সমাধান না হ‌লে সংবাদ স‌ম্মেলন ক‌রে ইন্ধনদাতা‌দের নাম প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।  

নাম প্রকা‌শে অনিচ্ছুক ছাত্রদ‌লের সা‌বেক এক সহ-সভাপতি বলেন, সার্চ কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা রুহুল ক‌বির রিজভীকে কার্যালয় থে‌কে জোর ক‌রে বের করে দিতে বলেছিলেন। তারা বলেছিলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দিতে, ভাংচুর কর‌তে কিন্তু আমরা যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি তা তো করতেই দেয়নি। উল্টো আন্দোলন চলাকালে কার্যালয়ের মূল গেটে পাহারা দিয়েছি যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। 

এই ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, আমরা জে‌নে‌ছি ওইদিন রিজভীকে বের করতে অ্যাম্বুলেন্সও এনেছিল সার্চ কমিটি, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বিল দিয়েছেন সার্চ কমিটির নেতা। তারা ওই নেতাকে খুঁজতে চেষ্টা করছেন।

ওই নেতা ব‌লেন, যারা ইন্ধন দি‌য়ে‌ছি‌লেন তারাই আজ আবার ছাত্রদল নি‌য়ে রাজনী‌তি শুরু ক‌রে‌ছেন। সংকট সমাধানের প‌রিব‌র্তে তারাই সংকট‌কে আরও ঘনীভূত কর‌ছেন, যা অনাকা‌ঙ্খিত।

উদ্ভূত প‌রি‌স্থি‌তি‌তে বিএন‌পির ভ্যানগার্ড হি‌সে‌বে খ্যাত ছাত্রদলের সংকট সহসাই কাট‌ছে না। ক্ষুব্ধ নেতা‌দের দা‌বি অনুযায়ী আহ্বায়ক ক‌মি‌টি গঠ‌নে রা‌জি হননি সংগঠন‌টির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতারা। এই অবস্থায় ফের আ‌ন্দোল‌নে যাওয়ার ইঙ্গিত দি‌য়ে‌ছেন ক্ষুব্ধ নেতারা।

এদি‌কে ছাত্রদলের সংকট সমাধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরে দাঁড়াতে চাইছেন। সার্চ কমিটির নেতাদের আচরণ ‘সম্মানজনক’ না হওয়ায় তারা সরে দাঁড়াতে চাইছেন বলে দুই নেতা‌র ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আব্বাস ও গয়েশ্বর ছাত্রদল নি‌য়ে বিস্তা‌রিত কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার দুপু‌রে ক্ষুব্ধ নেতা‌দের স‌ঙ্গেও দুই নেতার বৈঠ‌কের কথা র‌য়ে‌ছে।

ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা জানান, সার্চ কমিটির নেতাদের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। 

তারা বলেন, আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির দুই নেতার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিত করাসহ প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত দাবি করেছি। ওই ঘটনায় সার্চ কমিটিতে থাকা একা‌ধিক নেতাসহ বিএন‌পিরও সি‌নিয়র অনে‌কের ইন্ধন ছিল, যা খুঁজে বের করতে হবে।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ৩ জুন বিলুপ্ত করার পর সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে সার্চ কমিটি ব্যর্থ হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্রকে দায়িত্ব দেন। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দিকেও নিয়ে যান। এ নি‌য়ে গত শুক্রবার অনু‌ষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ধন্যবাদ জানানো হয়। ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সার্চ কমিটির কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। 

বিএনপির এই নেতা আরও জানান, সার্চ কমিটির কর্মকাণ্ডে মনে হয়েছে, আব্বাস-গয়েশ্বর এবং সার্চ কমিটি মুখোমুখি অবস্থানে। যা দলের এবং ওই দুই নেতার জন্য সম্মানজনক নয়। এ কারণেই তারা সরে যেতে যাচ্ছেন। 

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলে পরি‌স্থি‌তি শান্ত করাসহ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। এখন বাকি যে কাজ আছে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সমাধান করতে পারবেন। তবে, প্রয়োজন হলে যেকোনো সহযোগিতা তারা পাবে।

সার্চ কমিটি ও ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গে‌ছে, ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা তারেক রহমানের সব সিদ্ধান্ত মেনে তারা সার্চ কমিটির অধীনে একটি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির দাবি করেছিলেন। যার নাম 'আহ্বায়ক ক‌মি‌টি' হ‌তে পা‌রে ব‌লে জানান। কিন্তু স্থায়ী কমিটির দুই নেতা চাইলেও সার্চ কমিটির নেতারা তা মানতে চান না।