আওয়ামী লীগের সবাই মিলে দুর্নীতি করছে: ফখরুল

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে হারে দুর্নীতি চলছে এটা শুধু তার একটা। যেটাতে একটা সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী বহিষ্কার করেছেন। এটা সারা দেশের চিত্র। এটা প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগের সবাই মিলে দুর্নীতি করছে। 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য অংশীদারত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, অংশীদারত্ব তো দূরের কথা। গণতন্ত্র বলতে শুধু নির্বাচনকে বোঝায় না, পুরো ব্যবস্থাকে বোঝায়। রাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনব্যবস্থা, গণমাধ্যমসহ সবকিছুতেই গণতান্ত্রিক চেতনা থাকতে হবে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছরে এসে মানুষ গণতন্ত্রের শূন্যতায় অবস্থান করছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা গণতন্ত্রকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন— উদার গণতন্ত্র, নির্বাচনী গণতন্ত্র, নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র ও রুদ্ধদ্বার স্বৈরতন্ত্র। বাংলাদেশে এখন নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র চলছে। নির্বাচন হচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ও নিজের মতো করে তারা স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করছে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চলছে। কথা বলার স্বাধীনতা, মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার, সুশাসন, নিশ্চিত জীবনের নিরাপত্তা নেই। এ অবস্থায় আমরা গণতন্ত্র দিবস পালন করতে এসেছি। এ চেয়ে ব্যঙ্গাত্মক কিছু হয় না।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্ন করুক যে এই দেশ তাদের সর্বজনীন মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী হয়েও কীভাবে এ ধরনের একটি সরকারব্যবস্থা চালু রেখেছে। 

বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনে করছে, তারা বাংলাদেশের একক শক্তি। সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিল ও নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।