ঐক্যফ্রন্টে কোনো ভাঙন ধরেনি: ফখরুল

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনেকে বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে সক্রিয় দেখছেন না। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট তাদের দল ও সংগঠনকে সংগঠিত করতে কাজ করছে। নির্বাচনের পূর্বে ঐক্যফ্রন্ট তৈরি করেছিলাম। জোট করেছিলাম। সেই ঐক্য এখনও অটুট। সেখানে কোনো ভাঙন ধরেনি।

সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের 'বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস ও আমরা' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। 

‘দেশে বর্তমানে বিদেশিদের পুতুল সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে চলেছে' মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্রহীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা বিশ্বের মতো এ দেশের রাজনীতিতেও পরিবর্তন ঘটেছে। যারা বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ক্রীড়নক হয়ে এ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তাকে যদি মুক্ত করতে হয়, সুচিকিৎসার জন্য যদি বাইরে আনতে হয়, তা হলেও আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আনতে হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে এই সরকার হটানো যাবে না। জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে এদের বিদায় করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন ওরা মিথ্যুক, ওরা প্রতারক, ওরা ভণ্ড এবং ওরা কাপুরুষ। আমরাই সাহসী, আমরা ১০ বছর ধরে লড়ছি। শেষ পর্যন্ত লড়ব।

সংগঠনের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জনসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক ও নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম বক্তব্য দেন।

মুক্তিযোদ্ধা দলের মানববন্ধন :জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে গতকাল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অধিকারকে ছিনিয়ে আনতে হবে, কেউ তাদের অধিকার দিয়ে যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসামের মন্ত্রী বলছেন, ওখানে যারা আছে, সবাইকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ভারত সরকারকে বিশ্বাস করতে চাই। ধিক এই নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে। মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন আর রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন না, রাষ্ট্রই এখন রাজনীতিবিদদের পরিচালনা করছে।

সংগঠনের সহসভাপতি মিজানুর রহমান খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ।