দুর্নীতির দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: বিএনপি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

দুর্নীতির দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীনদের গ্রেফতারের কয়েকটি ঘটনায় 'সরকারের স্বর' নেমে গেছে। আগে জোর গলায় কথা বলত, এখন তারা নিজেরাই ধরা পড়েছে। তাদের লোকেরাই সব ধরিয়ে দিচ্ছে।

বৈঠকে রংপুর-৩ উপনির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন। এ কারে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে জনগণকে রেহাই দিন। জনগণকে স্বস্তি দিন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোটা দেশে ক্যাসিনো-জুয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঢাকার বাইরেও জুয়া খেলা চলছে। এ সরকারের আমলে এটা প্রচণ্ড রকম বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণ কোথাও তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ২৯ ডিসেম্বর যাদের ব্যবহার করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাদের বলার কিছু নেই, তাদের নিয়ন্ত্রণই করতে পারছে না। এ কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, নিজের দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এ সরকার সচেতনভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের কারণেই রাষ্ট্রের অন্য স্তম্ভগুলো ব্যর্থ হচ্ছে, ভেঙে পড়ছে, কাজ করছে না। চারদিকে শুধু দুর্নীতি, দুর্নীতি আর দুর্নীতি। এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি শুকিয়ে গেছেন এবং তিনি এখন নিজে নিজে খেতে পারছেন না, তাকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার কোনো কথাই শুনছে না। উদ্দেশ্যটা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে দূরে রাখা এবং একই সঙ্গে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। উচ্চ আদালতের অবকাশকালীন ছুটির পর খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।