কারা আসছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

অমরেশ রায়

সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে দীর্ঘ সাত বছর পর হচ্ছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে। শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। কেন্দ্র ও ঢাকা মহানগর কমিটির শীর্ষ পদে আসতে ইচ্ছুকদের তালিকাও বড় হচ্ছে।

আগামী ১৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগে ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ১২ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহানগর উত্তরের সম্মেলন হবে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার প্রায় সাত বছর পর এই সম্মেলন হচ্ছে।

১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সাবেক এমপি হাজী মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে প্রথম কমিটি হয়। ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই সংগঠনের প্রথম সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সভাপতি ও পংকজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সাংগঠনিক সম্পাদক হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা

মো. আবু কাওছার প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং পরে সভাপতি মনোনীত হন। ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনের দ্বিতীয় সম্মেলনে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পংকজ দেবনাথ এমপিকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে চাইছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ক্যাসিনো-কাণ্ড এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কোনো কোনো নেতার অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদেরই শীর্ষ পদে নিয়ে আসার তাগিদ রয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্ব ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে যাদের গায়ে এখনও কলঙ্কের দাগ লাগেনি, এমন নেতাদেরই ওই দুটি পদে আনার সম্ভাবনা দেখছেন পদপ্রত্যাশীরাও। নানা কারণে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে ভালো ভূমিকা রয়েছে- এমন নেতারাই গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় ও মহানগর সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরেশোরেই। সংগঠনের সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলন কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে আগামী ২৬ অক্টোবর বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে।

সম্মেলনে প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ। তিনি বলেন, ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর আসবেন। এর বাইরে সংগঠনের কেন্দ্র ও সাংগঠনিক মহানগর শাখা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ৩০০ কাউন্সিলর নতুন নেতা নির্বাচন করবেন।

কেন্দ্রে আলোচনায় যারা :স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার এবং সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথকে এবার সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। এই অবস্থায় শীর্ষ দুটি পদে আসতে ইচ্ছুকদের মধ্যে একধরনের উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেকে লবিং-তদবিরের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের নজরে আসতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সহসভাপতি মতিউর রহমান মতি, মঈন উদ্দিন মঈন, সৈয়দ নূরুল ইসলাম নূরু, সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়, এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, কাজী শহিদুল্লাহ লিটন, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ে জোরালোভাবে রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, আবদুল আলীম বেপারী, দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক খান, সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক এম এ হান্নান প্রমুখ।

১৩ বছর পর অনুষ্ঠেয় এবারের সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরান, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, গোলাম রাব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পান্না, আফরোজ হাবিব, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের তেজগাঁও থানা সভাপতি সর্দার আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদপুর থানা সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে আসতে চাইছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মির্জা মোরশেদুল আলম মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, আসাদুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক প্রমুখ।