দুর্নীতির চক্র ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: কাদের

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

দুর্নীতির চক্র ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযান চলছে, চলবে। এটা কোনো দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান নয়। যারা দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত, তারা কেউ ছাড় পাবে না। 

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে 'কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম' শীর্ষক কর্মশালা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি এ কর্মশালার আয়োজন করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সভাপতি অধ্যাপক হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

ভারত-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অসাংবিধানিক চুক্তি হয়েছে। বাস্তবে কোনো চুক্তিই হয়নি, হয়েছে সমঝোতা। 

সমঝোতা আর চুক্তি এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টার গভীরে না গিয়ে তিনি নেতিবাচক সমালোচনা করলেন। এই নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ক্রমেই তারা জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাতটা সমঝোতা স্মারক হয়েছে। তিনটা প্রজেক্টের বিষয়ে কথা হয়েছে। কোথায়, কোন লাইনে অসাংবিধানিক কিছু আছে, অগণতান্ত্রিক কিছু আছে, এটা তথ্যপ্রমাণসহ মির্জা ফখরুল সাহেব আপনাকে দেখাতে হবে। অন্ধকারে ঢিল ছুড়বেন না। আগে বলতেন, দেশ বিক্রি হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা ভারতে গেলেই দেশ বিক্রি হয়ে যাওয়ার খবর আপনারা বলতেন। চুক্তি করলে আগে বলতেন গোলামির চুক্তি হয়েছে। এখন বলছেন সংবিধান লঙ্ঘন হয়ে গেছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কয়েকটি চুক্তির সার্থকতা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে সবাই নতজানু ছিল ভারতের প্রতি। শত্রুতা করে কিছুই আনতে পারেনি। আমরা শত্রুতা চাইনি। শেখ হাসিনা বন্ধুত্বের পথে গিয়েছেন বলেই ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যা বাস্তবায়ন হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও ছিটমহল নিয়ে এমন শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় নাই।

তিস্তা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, তিস্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতি হয়েছে। যিনি (প্রধানমন্ত্রী) গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করেছেন, তিনি তিস্তা চুক্তির ব্যাপারেও সফল হবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন করব। কাজেই আপনারা শুধু সমালোচনার জন্য, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছেন, বিষোদগার করছেন। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ, রাজপথে ব্যর্থ। সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে তারা অসংলগ্ন কথা বলছেন, অন্তঃসারশূন্য প্রলাপ বকছেন।

রংপুর-৩ উপনির্বাচনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রংপুর-৩ উপনির্বাচনে যে ভাবসাব তারা দেখিয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল, বিশাল এক বিজয় তারা পেয়ে যাবে। কিন্তু কী হলো, কত ভোট পেলেন; ধারণারও কম। সেখানে তো আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি, আপনারা নিয়েছেন। এত জনপ্রিয় দল আপনারা বলেন, কিন্তু ভোটার উপস্থিতি কেন কম হলো মির্জা ফখরুলের কাছে সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।