চুক্তিতে ভারতের স্বার্থই গুরুত্ব পেয়েছে: খালেকুজ্জামান

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত সাত দফা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং ৫৩ দফা যৌথ ঘোষণায় ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উপেক্ষা করা হয়েছে দেশের স্বার্থকে।'

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা খালেকুজ্জামান রোববার সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

বিবৃতিতে বাসদ নেতা বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকর ঢাকা সফরকালে বলেছিলেন, তাদের রাষ্ট্র বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কিন্তু এ বক্তব্যের যথার্থতা পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এবং যৌথ ঘোষণার যতটুকু প্রকাশ পেয়েছে, তা থেকে বোঝা কঠিন। কারণ তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, টিপাইমুখে বাঁধ, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প, বাণিজ্য ঘাটতি নিরসন, সীমান্তে হত্যা বন্ধসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যুতে কোনো চুক্তি বা ঘোষণা এই সফরকালে সম্পাদিত হয়নি।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, তিস্তার পানি না পেলেও উল্টো ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া, দেশের সমুদ্রসীমায় ভারতকে নজরদারি করার অনুমতি, যৌথ ঘোষণায় রোহিঙ্গা শব্দ এড়িয়ে যাওয়া, এনআরসি প্রসঙ্গ না থাকা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এলএনজি রফতানির চুক্তি এবং আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার মাধ্যমে এই সফরে ভারতের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে।

খালেকুজ্জামান দ্রুত বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ ঘোষণা এবং চুক্তিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের এই পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের ভূমিকার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান রেখেছেন।

অপর এক বিবৃতিতে বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দার পাশাপাশি আটককৃতদের মুক্তি দাবি করেছেন।

তিনি বলেছেন, উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী বর্তমানে এ দেশের নাগরিক হওয়ার পরও তাদের নাগরিক সুবিধা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের উচ্ছেদ করে সেই জায়গা দখল করার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুরা নানা চক্রান্ত করছে। এরই অংশ হিসেবে জেনেভা ক্যাম্পে হামলা করা হয়েছে।

খালেকুজ্জামান অবিলম্বে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলাকারী পুলিশ ও জড়িত স্বার্থবাদী গোষ্ঠীকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।