শ্রমিক লীগের সম্মেলন চলছে

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বেলুন উড়িয়ে শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী- সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টিপাতকে উপেক্ষা করে শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১১টার দিকে সম্মেলন শুরু হয়।

এর আগে বৃষ্টিপাতকে উপেক্ষা করে সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্লোগানের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানান নেতাকর্মীরা। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা আর বেলুন উড়িয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে

সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে এ দিন সকাল থেকেই শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলন স্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের ইতিহাস ঐতিহ্যের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগ আগে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বলে বিবেচিত হতো। তবে নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-২০০৮-এর বিধিমালা অনুযায়ী দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করায় এ সংগঠনসহ ছাত্রলীগ সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা হারায়। অবশ্য সংগঠন দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছরের জন্য বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হলেও এবার দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পর জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন- এ নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে। মূল দুটি পদ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমান সভাপতি শুকুর মাহমুদ একই পদে আবারও নির্বাচিত হতে চাইছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নামও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছে। এ পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছেন- বর্তমান কমিটির কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, আমিনুল হক ফারুক, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে বর্তমান কমিটির এক ডজনের বেশি নেতা জোর লবিংয়ে নেমেছেন। তারা হচ্ছেন- বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিল্ক্কি, তোফায়েল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কে এম আজম খসরু, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শিল্প ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশ, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা প্রমুখ।