হতাশ হলে চলবে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

হতাশ না হয়ে বরং জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। প্রতি রাতের পরই নতুন সূর্য ওঠে। কেউ নিরাপদ না। আওয়ামী লীগ সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে। এটা সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টাকা বানানোর রোগে আক্রান্ত- মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-টাকা বানানো নাকি একটি ব্যাধি বা রোগ। সেই রোগে তো আপনারাই বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। এখন তাই নিজেদের সোনার ছেলেদের ধরে ধরে আনছেন। তাদের বলার চেষ্টা করছেন- তোমরা এখন ভালো হয়ে যাও।'

তিনি বলেন, 'উন্নয়নের রোল মডেলের নামে সরকার দেশটাকে সন্ত্রাসের রোল মডেল, নারী-শিশু ধর্ষণের রোল মডেল, দুর্নীতির রোল মডেল বানিয়েছে। গত দশ-এগারো বছরে তারা লুটপাটের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। ব্যাংক থেকে টাকা চলে যাচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে লুট হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি চলছে।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'লুটপাটের এই অবস্থা পাল্টাতে সোচ্চার হতে হবে। লুটপাটের এই প্রথাকে ভেঙে ফেলতে হবে। এটাকে ভেঙে নতুন সমাজ, নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। আমাদের এখন বয়স হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সময় আমরা নতুন দেশ তৈরি করেছি। আজ তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।'

বিদেশে নারী শ্রমিক নির্যাতন বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'নারীরা কাজ করবেন মর্যাদার সঙ্গে। মর্যাদাহানি করে কাজ করবেন- এটা কখনও মেনে নিতে পারি না। আজ অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে শুনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ৫৫ জনের মৃত্যু- এটা তো সাধারণ ব্যাপার! সরকারের এই মানসিকতাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।'

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'খালেদা জিয়া একজন জাতীয় নেত্রী। তিনি নারী নেত্রী। এত বয়সী, এত অসুস্থ; তারপরও তার ওপর নির্যাতন করে কেউ কেউ পাশবিক আনন্দ পান। এই রকম পৈশাচিক আনন্দ যারা পান, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।'

সংগঠনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সেমিনারে বক্তব্য দেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমান ও সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, আবদুস সালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম, হারুনুর রশীদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামসুল আলম প্রামাণিক, বিলকিস ইসলাম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফরিদা ইয়াসমীন, নুরজাহান মাহবুব, আনোয়ার হোসেইন, খন্দকার আবু আশফাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।