কাজের সুযোগ চান আ'লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যরা

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ

অমরেশ রায়

কাজের সুযোগ চান আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যরা। তারা বলেছেন, দলের জাতীয় কমিটির সদস্যদের কাজের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে তৃণমূল থেকে যারা দলের জাতীয় কমিটির সদস্য হন, তাদের কাজ করার সুযোগ খুব একটা নেই। এ অবস্থায় তাদের কাজ সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।

বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় কমিটির বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন। বৈঠক সূত্র এসব তথ্য দিয়েছে। জবাবে শেখ হাসিনা দলীয় গঠনতন্ত্রের 'জাতীয় কমিটি গঠন ও কার্যপরিধি' সংক্রান্ত ধারাগুলো পড়ে শোনান। এ সময় তিনি বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্রেই জাতীয় কমিটিকে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা দলের জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর কার্যক্রম দেখভাল করতে পারেন। প্রয়োজনীয় বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজের অধিকার কাউকে দিতে হয় না, আদায় করে নিতে হয়। জাতীয় কমিটির সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ রাজনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন।

বৈঠকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রশংসা করে এটা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান জাতীয় কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, এই অভিযানে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিচ্ছেন। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এটা অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগ ও সরকারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। মানুষ সন্তুষ্ট থাকবে। দেশের মানুষ আবারও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে, শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করবে।

তিন বছরেরও বেশি সময় পর ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, ৭৯টি সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন করে এবং দলীয় সভাপতি মনোনীত ২১ জন নেতা এ কমিটির সদস্য। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনী ডামাডোলসহ নানা কারণে তিন বছর ধরে তা সম্ভব হয়নি বলে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন।

বৈঠকে জাতীয় কমিটির কয়েকজন প্রবীণ সদস্য আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় এসব বিষয় নিয়ে তাদের স্মৃতিকথা লেখার পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

বৈঠকে শেখ হাসিনাকে আজীবন দলের সভাপতি পদে দেখার আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরেন জাতীয় কমিটির কয়েকজন সদস্য। তারা বলেন, দলে শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই। এমন কোনো নেতা নেই, যাকে শেখ হাসিনার স্থলে দলের দায়িত্ব দেওয়া যায়। তাই শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনিই যেন দলের নেতৃত্বে থাকেন। তার নেতৃত্বেই দল এগিয়ে যাবে, দেশও এগিয়ে যাবে।

বৈঠকে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে দলের গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়। এ সময় দলের বাজেটও অনুমোদন করা হয়। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপনও করা হয়।