বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল শনিবার। দীর্ঘ এই দুটি বছরে তাকে মুক্ত করতে 'কার্যকর' কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। বরং খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হয়েছে। চার দেয়ালের ভেতর 'প্রতিবাদ সমাবেশ' অথবা দলীয় কার্যালয়ের সামনে 'সংক্ষিপ্ত সমাবেশের' মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে আন্দোলন কর্মসূচি। কিন্তু এ 'ব্যর্থতার' দায় নিতে রাজি নন দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীসহ কেউই। বরং দায় এড়াতে পরস্পরকে দোষারোপ করে চলেছেন অবিরাম। ফল হচ্ছে, এক যুগেরও বেশি সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা এখন হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। মাঠের আন্দোলনের যখন এই হাল, তখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দলটি। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের 'অনুকম্পায়' প্যারোলে জামিন পাওয়ার আবেদন করা ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। বিএনপির শীর্ষ নেতা ও আইনজীবীদের দাবি, খালেদা জিয়ার জামিনের পথে প্রধান অন্তরায় সবকিছুর  নেপথ্যে সরকারের জোরালো প্রভাব। তারপরও হাল ছাড়েননি তারা। রাজপথে আন্দোলন জোরদার ও আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার চেষ্টা করার কথা বলছেন তারা। শিগগির উচ্চ আদালতে আবারও জামিনের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন আইনজীবীরা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ খালেদা জিয়ার কারামুক্তি চান না বলেও দাবি করছেন কট্টরপন্থি কিছু নেতা। তাদের যুক্তি, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে শীর্ষ নেতা অনেকের গুরুত্ব কমে যাবে।

দলের নেতাকর্মীদের পরস্পরকে দোষারোপ করার মধ্যেই খালেদা জিয়ার কারাবন্দির দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল ঢাকায় সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। তবে গত রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি পায়নি তারা।

এদিকে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ব্যর্থতার পাশাপাশি তার বাসভবনের ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছে না বিএনপি। গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কে 'অভিভাবকহীন' অবস্থায় পড়ে আছে খালেদা জিয়ার ভাড়া করা বাসভবন 'ফিরোজা'। মাসিক তিন লাখ টাকা হারে বাড়িটির ভাড়া দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে বকেয়া পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলাসহ ১৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে তার। বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও কারামুক্তিতে বাধা মাত্র দুটি মামলা। নানা আইনি জটিলতায় মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার। তার কারামুক্তিতে এখন অন্তত দুই মামলায় জামিন পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সমকালকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত উচ্চ আদালতের ওপর ক্ষমতাসীন দল হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশালের চরিত্রে আবির্ভূত হয়ে আবারও গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রেখে রাতের আঁধারে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় আছে এবং আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনে লিপ্ত হয়েছে সরকার। তিনি বলেন, দুঃশাসনের মাধ্যমে কেউই টিকে থাকতে পারেনি, আওয়ামী লীগও পারবে না। বিএনপি জনগণের দল হিসেবে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়া যখন কারাগারে গেলেন, তখন তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন তিনি দ্রুত জামিন পেয়ে যাবেন। অবশ্য অতীতেও সাজাপ্রাপ্ত অনেক রাজনীতিবিদ জামিন পেয়েছেন। সে হিসেবে খালেদা জিয়ারও বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারণ বিবেচনায় জামিন পাওয়া উচিত। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এ ক্ষেত্রে দলীয়করণের প্রভাব রয়েছে। খালেদা জিয়া সত্যিকার অসুস্থ হলে মেডিকেল বোর্ডের মতামতের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে বিরোধী পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি চলছে। এটা কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকারের লাভ। তবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলন সমস্যা বাড়ায়, কমায় না।

তৃণমূলের ক্ষোভ-হতাশা :খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দুই বছরেও মুক্ত করতে না পারায় ক্ষুব্ধ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দলের নীতিনির্ধারক নেতারা সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক কলাকৌশলের মাধ্যমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজপথে কঠোর আন্দোলন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক নেতা মুক্তি পান না। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সে ধরনের কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

মাঠ নেতাদের মতে, 'শান্তিপূর্ণ' কর্মসূচির মাধ্যমে পৃথিবীতে কোনো দাবিই আদায় হয় না। কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বলে কর্মীদের নিস্তেজ করে রেখেছেন। একই সঙ্গে তারা পকেট ও পারিবারিক কমিটি করে যোগ্য, ত্যাগী ও সাহসী নেতাদের সাইডলাইনে সরিয়ে দিয়েছেন। পকেট কমিটির নেতারাও পদ রক্ষায় শুধু কেন্দ্রীয় নেতাদের অফিস, বাসভবনে যাতায়াত আর ফেসবুকনির্ভর নেতায় পরিণত হয়েছেন। তৃণমূল কর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হলেও কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা তাদের কোনো খোঁজ রাখছেন না।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী সমকালকে বলেছেন, ঢাকায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি, যেখানে সব কেন্দ্রীয় নেতা রাজপথে নেমেছেন। শুধু নামকাওয়াস্তে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে নিজেরা বাসভবনে বিশ্রাম করেছেন। আর আমরা কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি এভাবে কারাবন্দি থাকলে ঢাকায় সমাবেশ করতে তাদের নেতারা অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকতেন না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন কট্টরপন্থি নেতা জানান, খালেদা জিয়া কারামুক্ত হোক- এটি দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে চান কিনা সন্দেহ আছে। কেননা খালেদা জিয়া কারামুক্ত হলে ওই নেতাদের গুরুত্ব তো তখন অনেক কমে যাবে।

'বাস্তবতা' মানছেন নীতিনির্ধারকরা :বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, শুধু আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে হবে না। দলের নেত্রীর প্রতি কর্মীদের আবেগপ্রবণ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। বর্তমানে সার্বিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাদের কৌশল ঠিক করতে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শও নিতে হয়। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।

দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা সমকালকে জানান, তৃণমূল নেতাদের আবেগ আর বাস্তবতা এক নয়। আন্দোলন কর্মসূচি দিলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কর্মীদের। কিন্তু বর্তমানে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী মামলার বোঝা নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল সমকালকে বলেছেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এতদিন কারাগারে থাকার কথা নয়। আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এটা হয়েছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় তাকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার মনে হয় না, সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিতে আগ্রহী নয়। ৪০১ ধারায় সাজা স্থগিত রেখে তাকে জামিন দেওয়া যেতেই পারে।

বিশেষ আবেদনের ভাবনা পরিবারের :খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ আবেদনের কথা ভাবছে তার পরিবার। গত ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তার বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাদের পরিবারের সদস্যরা বিশেষ আবেদনের কথা ভাবছেন। তবে কবে নাগাদ তা করা হবে, এটা ঠিক করা হয়নি।

পরিবারের সদস্য ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিশেষ আবেদনের কথা বলা হলেও দলের অবস্থান ভিন্ন। বিশেষ করে স্বয়ং খালেদা জিয়ার অনুমোদন ছাড়া কোনো উদ্যোগের সঙ্গে দলকে সম্পৃক্ত করার বিপক্ষে নেতারা।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দলীয় নেতাদের নেই। দলের চেয়ারপারসনের অনুমোদন ছাড়া তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা তারা করবেন না। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার 'আপসহীন' ভাবমূর্তির বিষয়টি মাথায় রাখছেন তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির বিবেচনা করে তার পরিবারের সদস্যরা যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন।

অভিভাবকহীন 'ফিরোজা' :গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনটি এখন অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। 'ফিরোজা' নামের বাড়িটির মালিক বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের ছেলে তানভীর ইসলাম। ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল ওই বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। দুর্নীতি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া 'ফিরোজা'য় নেই। বাড়িটি এখন সুনসান পড়ে আছে। সামনের দিকে কেবল দুই-তিনজন নিরাপত্তারক্ষী বাড়ি পাহারা দেয়। ১৬ মাস ধরে বাড়িটি থেকে ভাড়াও পাচ্ছে না এর মালিক। তবে বিষয়টি 'স্পর্শকাতর' হওয়ায় এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি বিএনপি কোনো নেতা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্তব্য করতে রাজি হননি কামরুল ইসলামও।

সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার থাকার জন্য মাসিক তিন লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামে বাড়ি ভাড়ার চুক্তি হয়। দুই বছর পরপর চুক্তিপত্র নবায়ন হলেও গত আগস্ট মাসে ওই চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও ফালু আর তা নবায়ন করতে রাজি হননি। বাড়িটির ভাড়াসহ ব্যয়ের কিছু অংশ আগে মেটাতেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি মারা যাওয়ার পর সেটা বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ফালু বর্তমানে বিদেশে আছেন। অন্যদিকে ফালু নিজেও মামলা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকায় তার পক্ষে আর ভাড়া দেওয়া বা চুক্তি নবায়ন করা সম্ভব নয় বলে বাড়ির মালিককে জানিয়েছেন। বিদেশিদের কাছ থেকে মাসিক ছয় লাখ টাকা ভাড়া পাওয়া সত্ত্বেও ওই সময় খালেদা জিয়াকে বাড়িটি তিন লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা রক্ষী, বাড়ির কর্মচারী ও ড্রাইভারেরও বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ায় তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন।