৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দেশবাসী ও বিদেশিদের বড় ধরনের মেসেজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। 'সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বনাম ভোটের অধিকার' শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমি আশা করবো, আপনারা (বিএনপির কর্মী) জনসভায় দলেবলে উপস্থিত হবেন। কারণ আন্দোলন তো চলছেই, এখন আন্দোলন নতুন রূপ নেবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করার বিষয়ে এ জনসভা থেকে দেশবাসী এবং বিদেশিদের বড় মেসেজ দিতে চাই। 

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে গিয়েছি গণতন্ত্রের মাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে। এখন সেই আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মা এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। মানুষের বাক-স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য বিভিন্ন সময়ে আমরা কর্মসূচি দিয়েছি এবং নির্বাচনেও অংশ নিয়েছি। এর কোনোটাই আজ পর্যন্ত কাজে আসে নাই। সুতরাং আগামীর জন্য আমাদের ভাবতে হবে। 

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমির খসরু বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় রয়েছেন আগামীকাল দুই বছর হতে যাচ্ছে। এই যে জনগণের ভোট, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া- এসব কিছুর সঙ্গে খালেদা জিয়ার জেলা থাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ওনাকে জেলে রেখে জনগণের ভোটের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং যতদিন গণতন্ত্রের মা জেলে থাকবেন ততদিন ভোটাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে পাবেন না।

তিনি বলেন, যে পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই। নির্বাচন কমিশন তো ভোট করছে না। ভোটের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো সম্পর্ক নাই। ভোট করছে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে, ভোট করছে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা, ভোট করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা যতবার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছি, তাদের অবস্থা তো দেখেছি। যখন কথা বলি, মনে হয়েছে তাদের মাথার ওপর একটি তলোয়ার ঝুলানো আছে। এমন একটা ভাব। তাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝলাম, দেয়ালের সঙ্গে কথা বলা আর তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে কোনো ব্যবধান নাই।

আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।