খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সাড়া পাইনি: ফখরুল

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে চেষ্টা করেও সরকারের কাছ থেকে কোনও ধরনের সাড়া পাননি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। ২ বছর ৭ মাস তাকে বিনা অপরাধে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি খুব অসুস্থ।

তিনি বলেন, আমরা বারবার তার (খালেদা জিয়া) মুক্তি চেয়েছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎ​সার দাবি জানিয়েছি। আমরা সরকারের কাছে থেকে কোনও সাড়া পাইনি।

কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ২টায় কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। মিছিলের অনুমতি না পেয়ে পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন,  বিএনপি আশা করে মানবিক কারণে জনগণের দাবিকে সন্মান জানিয়ে করে তারা (সরকার) খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বক্তব্যে শেষে বিএনপি মহাসচিব নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা সরকারকে কোনো সুযোগ দিতে চান না।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আজকে কর্মীদের যে সাহস দেখেছি এভাবে যদি আপনারা রাস্তায় থাকেন, ইনশাল্লাহ অচিরেই দেশনেত্রী মুক্ত হবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, লাঠিপেঠা করুক, জেলখানায় ভরুক, গুম করুক প্রতিবাদ থামবে না। প্রতিবাদ চলতেই থাকবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও মহানগরের নেতা কাজী আবুল বাশার ও আহসানউল্লাহ হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মহানগরের বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেই্‌ন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে দলের কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন। তিনি নিজে বক্তব্য দেননি।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সুপু, আমিনুল হক, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, শামীমুর রহমান শামীম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার মাশুকুর রহমান, হারুনুর রশীদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, সাখাওয়াত হোসেন খান, মজিবুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।