খণ্ডিত বাসদ আবার ভাঙনের মুখে

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

আভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ফলে আবারো ভাঙনের পথে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। বাসদ ভেঙে সাত বছর আগে গঠন করা হয় বাসদ (মার্কসবাদী)। এবার এই অংশটিই পড়েছে ভাঙনের মুখে। 

দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা না মানার অভিযোগে রোববার রাতে বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির বৈঠকে ১৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী।  

এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দলটির কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী। এছাড়া বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর জেলা কমিটির সদস্য রোকনুজ্জামান রোকন, আবু রায়হান বকসি এবং ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলা সভাপতি আবু রায়হান বকসি ও সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন রায়ও এর প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী সমকালকে বলেন, বাসদ মার্কবাদের সঠিক নিয়মে গঠিত হয়নি ও চলছে না উল্লেখ করে ১৬ নেতা কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির বৈঠকে দল ভেঙে দেওয়ার দাবি তোলেন। একই সঙ্গে তারা নতুন করে সঠিক মার্কসবাদী নীতি অনুসরণ করে দল গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কারণে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা না মানার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয় দলটির সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বলেন, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, আমি- আমরা এক সঙ্গে ৪০ বছল ধরে রাজনীতি করছি। যখন জাসদ থেকে বাসদ হলো সেই থেকে রাজনীতি করি আমরা। গত দুই বছর ধরে শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী ও তার সঙ্গে থাকা ১৬ জন পার্টির অভ্যন্তরে বক্তব্য দিচ্ছিলেন যে, এটা বিপ্লবী পার্টি না, পেটি বুর্জোয়া পার্টি। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, একটা দল যারা নিজেদের বিপ্লবী পার্টি মনে করে, তাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সেটাকে পেটি বুর্জোয়া পার্টি বললে সেই বলাটা যথার্থ হয় না। পার্টির বিভিন্ন সভায় তাদের কথা বলার গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়েছি। কিন্তু তারা পার্টির নিয়ম-নীতি না মেনে এভাবে পার্টির বিরুদ্ধে কথা বলতে থাকেন। একটা সময়ে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করি। এরপরও যেহেতু তারা এটা মানছেন না তাই আমরা ১৬ জনকে বহিষ্কার করেছি। 

তিনি আরও বলেন, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এজন্য তাকে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে তাকেও বহিষ্কার করা হবে। 

এর আগে সোমবার এক বিবৃতিতে শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী উল্লেখ করেন, একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ২০১৩ সালে বাসদ (মার্কসবাদী) গড়ে ওঠেছিলো। কিন্তু, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারার ভিত্তিতে দল গড়ে তোলার ঘোষিত নীতি অনুসরণ না করে দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ও তার অনুসারীদের আদর্শ-পরিপন্থী কর্মকাণ্ড দলকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ১৬ নেতা বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করে অতীত সংগ্রামের পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন পার্টি-প্রক্রিয়া শুরু করার জন্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, এ ১৬ নেতার আন্তরিক ও যৌক্তিক আহ্বান বিবেচনায় না নিয়ে তাদের উপলব্ধিজাত মতামতকে দলবিরোধী তৎপরতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনার সুযোগ রুদ্ধ করে দিয়ে সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। 

এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখ্যান করে দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৬ নেতার উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী। 

১৯৮০ সালে জাসদ ভেঙে বাসদ গঠিত হয়েছিল। পরে দুই ভাগ হয় বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব)। বাসদ (মাহবুব) ভেঙে বাসদ (রেজা) গঠিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে বাসদ (খালেকুজ্জামান) ভেঙে বাসদ (মার্কসবাদী) গঠিত হয়। এখন এই অংশটি এখন ভাঙনের মুখে। সবমিলিয়ে চার দশকে বাসদের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে পাঁচে।