মির্জা ফখরুল 'অর্বাচীনের' মতো বক্তব্য দিয়েছেন: কাদের

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনাকে 'ঋণের প্যাকেজ' বলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে 'অর্বাচীন' আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা সংকটে দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো বিচার-বিশ্নেষণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রণোদনা প্যাকেজ ও কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এই প্যাকেজ শুধু বিত্তবানদের স্বার্থকে সমর্থন করবে- এমন বক্তব্য যারা দিয়েছেন, তারা অবাস্তব ও অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দিয়েছেন।

সোমবার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলে, বিএনপি নেতারা যে কোনো পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে বিএনপির প্রস্তাব উত্থাপন ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঠিক তেমনিভাবে প্যাকেজ ঘোষণার পর মির্জা ফখরুলের আগোছালো মন্তব্যও ছিল মিথ্যাচারে ভরপুর।

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, সেটা ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অর্বাচীন। তিনি ভালোভাবে প্রণোদনা প্যাকেজটি পড়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, এতে বিত্তবানদের চেয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি প্রণোদনা প্যাকেজ ও আর্থিক বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রণোদনার ব্যাখ্যা দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ মানে বাজেট বরাদ্দ বা ক্যাশ ট্রান্সফার নয়। সংকটে অর্থনীতিকে আগের গতিশীলতায় ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়- এই বাস্তবতা মির্জা ফখরুল বুঝতে সম্ভবত ব্যর্থ হয়েছেন।

চলমান সংকটে বিএনপিসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেতিবাচক সমালোচনা না করে সবার উচিত জনগণ ও দেশের স্বার্থে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। তাই সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সবস্তরের জনগণকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই মানবিক বিপর্যয়ের সময় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দেশ-বিদেশে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার শান্তি ও চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত সরকারি ছুটিতে গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা, পণ্যবাহী যানবাহন, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচল করবে। এসব পরিবহনে কোনোভাবেই যাত্রী চলাচল করতে পারবে না।

এর আগে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।