কোয়ারেন্টাইনেই থাকছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। তবে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রভাব বাড়ার কারণে আপাতত বাসাতেই চিকিৎসা নেবেন তিনি। এ সময়ে তিনি নিজ থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। কারও সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করবেন না। শুধু তার সেবিকা, গৃহকর্মী এবং নিকটাত্মীয়দের কয়েকজনের সঙ্গেই তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যোগাযোগ রাখবেন। এ ছাড়া পরিপূর্ণ সুস্থতার আগে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে তিনি দেখভাল করবেন না বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এবং বাসার কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানান, খালেদা জিয়া তার বাসভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে এখন পর্যন্ত নিচতলায় আসেননি। তিনি এখনও হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার সেবার জন্য সেবিকা ও নার্সও দ্বিতীয় তলায় থাকেন। করোনার কারণে তারাও সাবধানে আছেন। প্রত্যেক দিন রুটিন করে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা দেখা করতে আসেন। এ সময়ে তারা তাদের বাসায় তৈরি খাবার সঙ্গে আনেন। গতকাল বুধবারও দুপুরে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে তারা ফিরোজায় আসেন।

গত ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। সেখান থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আসার পর তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যান তিনি। বর্তমানে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। জোবাইদা রহমান তার চিকিৎসার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার কোয়ারেন্টাইন শেষ হলেও তার বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখনই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিতে চান না তারা। করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বয়স্ক এবং অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা। সেদিক থেকে বয়স এবং অসুস্থতা দুই ঝুঁকিতেই রয়েছেন খালেদা জিয়া। কোয়ারেন্টাইনের পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার খোঁজখবর নিতে দেখা করতে চান বলে গুঞ্জন শুরু হলেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থায়ী কমিটির নেতারা জানান, তারাও সবাই বয়স্ক। তাদের কারও কারও ডায়াবেটিস ও অন্যান্য অসুস্থতা রয়েছে। সে কারণে এ মুহূর্তে বাসা থেকে বের হওয়া সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। নিজেদের ঝুঁকির থেকেও বড় কথা, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে তাদের কারোরই এ মুহূর্তে তার সঙ্গে দেখা করা উচিত হবে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে এখন কোনোভাবেই দেখা করার কথা চিন্তা করা ঠিক হবে না। আমাদের আগে দলের প্রধান খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমারও এ মুহূর্তে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমরা সবাই এই সময় নিজ নিজ ঘরে আছি।

সেলিমা রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এখনই সাক্ষাৎ করা ঠিক হবে না। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাকে তো আরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। তাছাড়া আমরা সবাই তো এখন কোয়ারেন্টাইনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু নির্ধারণ করা হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা টিমের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এ সময়ে তাকে কোয়ারেন্টাইনেই থাকতে হবে। তার বয়স ও অসুস্থতাকে বিবেচনায় রেখে এভাবেই তার অন্যান্য চিকিৎসা চলবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে, তখন আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে।