২৫ হাজার পাটকল শ্রমিক বিদায়ের সিদ্ধান্ত জনগণ মানবে না: রিজভী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২০     আপডেট: ২৯ জুন ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনার অভিঘাতে যখন দুর্ভিক্ষের ঘনছায়া সারাদেশে ব্যাপৃত হয়েছে, যখন খাদ্যাভাবে অসহায় নিরন্ন মানুষ হা-হুতাশ করছে, ঠিক তখন একেবারেই স্বল্প আয়ের পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকলসমূহে ২৫ হাজার শ্রমিককে গোন্ডেল হ্যান্ডসেকে বিদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রিজভী আরও বলেন, 'শ্রমিকদের বিদায় দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। গণদুশমন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে আমরা এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।'

রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকলসমূহের দুরাবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করে রিজভী বলেন, 'সরকারের ভ্রান্তনীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের ঐহিত্যবাহী পাটশিল্প আজ ধবংসের দ্বারাপ্রান্তে। দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি এবং মাথাভারি ও অদক্ষ প্রশাসন রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকলে লোকসানের জন্য দায়ী, শ্রমিকরা নয়। কারণ মৌসুমের জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা টাকা হয় তখন পাট কেনা হয়। শুধু তাই নয়, চাহিদার চেয়ে কম পাট কেনা হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'করোনা সংক্রামণের এই দুযোর্গকালে এমনিতেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, সেই সংকটকালে ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশে পাটের বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ইত্যাদি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির কাজ। লোকসানের দায় কোনোভাবে শ্রমিকরা নেবে না।'