২০২০-২১ অর্থ বছরের সংসদে পাস হওয়া বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয় দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বাজেটের আয় মেটানো কোনো মতেই সম্ভব নয়। এই বাজেট করোনাকালীন সময়ের বাজেট নয়। এই বাজেট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাজেট পরবর্তী এই প্রতিক্রিয়া দেন।

তিনি বলেন, বাজেটে এতো আয় কোত্থেকে আসবে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। রাজস্ব আয় থেকে একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ গত বছরে ৫০ ভাগ রাজস্বও আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে এখন একটা আপদকালীন বাজেট সরকারের তৈরি করা উচিত ছিলো। অর্থাত করোনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আপদকালীন স্বাস্থ্য, মানুষের জীবন এবং অন্যদিকে জীবিকা, মানুষের মানবিক দিকটা সবচেয়ে বড় করে আসা উচিত ছিলো। সেগুলো এই বাজেটে নেই।

ফখরুল বলেন, এই বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেওয়ার বাজেট, করোনার কারণে কর্মহীর হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার বাজেট। গরিব মানুষের সুবিধা কমিয়ে ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষ্যম আরো বৃদ্ধির বাজেট। সর্বোপরি এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকারীদের আরো সুযোগ সৃষ্টির বাজেট।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। আমরা এই বাজেটকে প্রত্যাখান করছি ঘৃণাভরে।

এই বাজেট প্রত্যাখ্যানে দল থেকে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি নির্ভর করে সময় ও কালের ওপরে। এই সময়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়াটা খুবই কঠিন। ইতিমধ্যে দলের প্রায় ৭৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। অসংখ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না যেখানে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভবিষ্যতে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বাজেটের যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তা সার্বজনীন নয় অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কর্মসূচিগুলো কিছু নির্দিষ্ট দল গোষ্ঠিকে লক্ষ্য করে গৃহীত। এভাবে মূলত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গোষ্ঠিতন্ত্র লালন করা হচ্ছে। করোনার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল যে মন্দা থাকবে তাতে মানুষের আয় এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে রাজস্ব আয়ে চরম ঘাটতি তৈরি হবে। এই ঘাটতি গিয়ে ঠেকবে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকায়। ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের মূল পদক্ষেপ হবে ঋণ করা। বাজেটেই উল্লেখ করা হয়েছে- ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। যেটা শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণে গিয়ে দাঁড়াবে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের এই অকল্পনীয় পরিমাণ টাকা ধার করার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে আসবে যা কর্মসংস্থানের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেবে।

তিনি বলেন, এতেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না। তাই সরকারকে বিপুল পরিমাণে টাকা ছাপাতে হবে। এই টাকা ছাপানো উচ্চ মূল্য স্ফীতি তৈরি করে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে প্রচণ্ডভাবে দুর্বল করে দেবে, যার ফল হবে মারাত্মক।

বাজেট পাসের পরদিন অর্থমন্ত্রীর লন্ডনে যাওয়ার কঠোর সমালোচনা করে করোনাভারাইস শনাক্তকরণে পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেখানে বাংলাদেশের লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত, সহস্রাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, হাজারো মানুষ করোনার পরীক্ষা করানোর জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছে, লাইন ধরছে এবং পরীক্ষা করতে পারছে না। পরীক্ষার কিটের অভাবে, যেখানে হাসপাতালের অভাব, হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে রোগীরা মারা যাচ্ছে সেখানে অর্থমন্ত্রী বিদেশে গেলেন- এটা জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া আর কিছু না।

রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০ এর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কেন মতামত বিএনপি দেয়নি, তার ব্যাখ্যাও দেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলসমূহে নিবন্ধন আইনের মতো এমন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক কিংবা সময়োপযোগী নয়, বরং অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহল বিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল বলে মনে করি।