সাহেদ-পাপিয়ার আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি নানকের

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক

যাদের হাত ধরে সাহেদ-পাপিয়ার উত্থান হয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, সাহেদ-পাপিয়ারা কীভাবে দলে ঢুকে পড়ে? নিশ্চয়ই কোনো ফাঁক-ফোকর আছে। যে নেতার হাত ধরে ঢোকেন, সেই নেতার হাতকে ভেঙে দিতে হবে। 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নানক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু সাহেদ-পাপিয়াদের হাত ভাঙলে চলবে না। তাদের যারা দরজা দিয়ে ঢুকিয়েছেন, তাদেরও হাত গুঁড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে। তাদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাহেদ নিয়ে আপনাদের প্রত্যেকের প্রশ্ন আছে। কিন্তু এই সাহেদ-পাপিয়ারা যে দরজা দিয়ে দলে প্রবেশ করেন, আগে সেই দরজা বন্ধ করতে হবে। পাপিয়াকে ধরলেই চলবে না, পাপিয়াকে কে ঢুকিয়েছেন, কে আশ্রয় দিয়েছেন, কে প্রশ্রয় দিয়েছেন- তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘কোনো হাইব্রিড যেন শ্রমিক লীগের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর কমিটিতে ঢুকতে না পারেন, সে বিষয়েও সংগঠনের নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে। ত্যাগ-তিতীক্ষায় যারা পরীক্ষিত, এমন মানুষের অভাব নেই। ফলে যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যারা যোগ্য, তাদেরই সংগঠনে জায়গা দেবেন। একই কথা আমার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাহেদ-পাপিয়াদের সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (শনিবার) বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ঈদুল আজহা পালন করব। কারণ আগামীকাল থেকে শোকের মাস আগস্ট শুরু হবে। এই আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা নির্দেশে সব কর্মসূচি সংক্ষিপ্তভাবে পালিত হবে। যে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা ঈদ করতে পারছেন না, সেই মানুষদের পাশেও দাঁড়াতে হবে। যে মানুষরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঈদ করতে পারছে না, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগস্ট মাসের কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানিয়ে নানক আরও বলেন, কিন্তু এই আগস্ট মাসের নামে কাউকে কোনো চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। কঠিনভাবে খেয়াল রাখতে হবে আগস্ট মাসকে সামনে রেখে কেউ যেন চাঁদাবাজি না করতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এ দেশের মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর। মেহনতি মানুষের প্রতীক। আপনাদের মাধ্যমে সারাদেশের মেহনতি মানুষকে জাগ্রত করার জন্য উজ্জীবিত করার জন্য এই করোনাকালীন সময়, বন্যা ও আগামীতেও যদি কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ আসে, তাহলে সব কিছুতেই আপনারা মেহনতি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাশে থাকবেন। মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করবেন। এটাই আমাদের নেত্রীর আকাঙ্খা, এটাই তার স্বপ্ন । সেই স্বপ্ন পূরণে আপনারা বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। ১৬ কোটি মানুষকে তিনি ভালোবাসেন। তিনি চান দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। কোনো একটি প্রাণ যেন অকারণে অথবা অবহেলায় ঝরে না যায়। আমরা শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে, আমরা জাতির পিতার আদর্শের সন্তান হিসেবে সবসময় মানুষের পাশে আছি, থাকব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সত্য, ন্যায় দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নাছিম।

পরে অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এম আজম খসরু।