আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার পেছনে তৎকালীন বিএনপি সরকারের মদদ ছিল। এ কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র তখন নীরব ছিল।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সংসদ ভবনের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের এসব বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তখন বিএনপির হাতে ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার ভার। দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং জনবল ও বোমা সরবরাহ এতসব একদিনে গড়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র সেদিন নীরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই বিএনপি সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল। না হয় কীভাবে এ দীর্ঘপ্রস্তুতি জঙ্গিরা গ্রহণ করলো।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, হত্যা, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদকে এদেশে বিএনপিই প্রশ্রয় ও লালন-পালন করে ক্যান্সারে রূপান্তর করেছে।
সরকারের মদদ ছাড়া সারাদেশে একযোগে এ ধরনের বোমা হামলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, কোন রাষ্ট্রশক্তির আনুকুল্য নিয়ে সেদিন পাঁচশ' জায়গায় শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল- তার জবাব বিএনপিকে দিতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি এখন ষোল আনা বৃথার হিসাবের মধ্যে পড়ে গেছে। তারা যেন আর জনগণের হিসাব না করেন। বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরাই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সেই হিসাব করবে। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখনো বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি নামের দলটি একটি উগ্র জঙ্গিবাদী দল। এদের দ্বারা জনগণের কোনো কল্যাণ হতে পারে না। এরা যাতে আর কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য এদের সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে হবে।
ক্ষমতাসীন দল জিয়াউর রহমানকে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলকে বলতে হবে, জিয়া সম্পর্কে কোন তথ্যটা আমরা মিথ্যা বলছি? জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেব মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। পারবর্তী সময় তার কর্মকাণ্ডে এটা বারবার প্রমাণ হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির প্রমুখ।