বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করছে। আইন হচ্ছে একটি রক্ষাকবচ। আইন পরিবর্তনের কাজে কমিশন হাত দিতে পারে না। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন আইন করার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে কমিশনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন পরিবর্তন করার মাধ্যমে ক্ষমতা খর্ব করা আত্মহত্যার শামিল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন ইতোমধ্যে তিন বছরের বেশি সময় পার করেছে। এই সময়ে বর্তমান কমিশন একটিও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেনি। এই অবস্থায় তারা নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্বাচনী ব্যবস্থার যে ক্ষতি তারা ইতোমধ্যে করেছে সেই ক্ষতি পূরণ করা, নতুন কোনো সর্বনাশের হাত থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে রক্ষা করা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দলের নূ্যনতম শ্রদ্ধা কিংবা আস্থা নেই। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে তারা গলাটিপে হত্যা করেছে। তাই এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধায়নে এবং একটি নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ জন্য গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

নির্বাচনী আইন সংশোধনে কমিশনের উদ্যোগের বিষয়গুলো নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন. আইনের দ্বারস্থ তখনই হওয়া যায় যখন দেশে আইন থাকে, যখন দেশে বিচার পাওয়া যাবে।

তাহলে নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। এটার কারণে আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।