পাটকল চালু না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওসহ হরতাল-অবরোধ: বাম জোট

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব পাটকলগুলো চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে চালু না হলে অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওসহ হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের পেছনে সরকারের বড় অজুহাত লোকসান। কিন্তু কেন ও কাদের কারণে লোকসান এবং লোকসান কাটাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল?- সেসব প্রশ্নের উত্তর নেই। মাথাভারি প্রশাসনের ব্যয়সহ সরকারি নীতি ও প্রশাসনের দুর্নীতি কারণে এমন লোকসানের দায়ভার শ্রমিকরা কেন নেবেন?’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত অবস্থান ও সংহতি সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল ও পিপিপি বা লীজ নয় আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় পাটকল চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী জেলা জেলায় অবস্থান ও সংহতি সমাবেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে ও কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক প্রমুখ।

বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শহীদুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার সাগর, লুনা নূর, খালেকুজ্জামান লিপন, আল কাদেরী জয়, নাঈমা খালেদা মনিকা, বহ্নিশিখা জামালী, রাশেদ শাহরিয়ার, সুুস্মিতা মরিয়ম, সুস্মিতা রায় সুপ্তি, রুখসানা আফরোজ আশা, জুলফিকার আলী, আ ক ম. জহিরুল ইসলাম, জুলহাস নাইন বাবু, সাদিক রেজা, বেলায়েত সিকদার, ইমরান হোসেন, রাজু আহমেদ, শাহিন রহমান, সাজেদুল হক রুবেল প্রমুখ।

নেতারা বলেন, ‘করোনা মহামারিতে পুরো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। ঠিক তখন রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিককে বেকার করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ করোনা পরবর্তী বিশ্বব্যাপী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার ফলে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়বে বিপুলভাবে।’

তারা বলেন, ‘১ হাজার ২০০ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক তাঁত স্থাপন করলে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব পাটকলগুলোর উৎপাদন বাড়তো তিনগুণ। শ্রমিকদের গড়ে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিয়েও পাটকল লাভজনক করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের নামে শ্রমিক ছাঁটাই করার পদক্ষেপ নিয়েছে।’

সংহতি সমাবেশ থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পাট মন্ত্রণালয় এবং সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।