পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভক্ত গণফোরাম। একটি অংশ গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ড. কামাল হোসেনের অনুপস্থিতিতে বর্ধিত সভা করে আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা করে। গঠন করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

শনিবার এ প্রস্ততি কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নেতারা ঘোষণা করেছেন, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত তাদের কাউন্সিলে ড. কামাল হোসেন অংশগ্রহণ না করলে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ গণফোরাম আনুষ্ঠানিকভাবেই দ্বিখণ্ডিত হবে।

অন্যদিকে একইদিন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। যাতে ড. কামাল হোসেন ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন। গণফোরামের মূল অংশের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় এই সভা শুরু করা হবে। সভায় গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন।

গণফোরামের একাংশের কাউন্সিল প্রস্ততি কমিটির বৈঠক শেষে দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ড. কামাল হোসেন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আর আমি গণফোরামে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। দলের স্থবিরতা দূর করতে ২৬ ডিসেম্বর কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এই কাউন্সিলে ড. কামাল হোসেন যোগ দেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

মন্টু আরও বলেন, ‘কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন করবেন কাউন্সিলরা। কাউন্সিলরা যদি ড. কামাল হোসেনকে নেতা নির্বাচন করেন আমরা বিনা দ্বিধায় তার সাথে কাজ করবো কর্মী হিসেবে। আর তিনি যদি না আসেন তাহলে সারাদেশের কাউন্সিলরা বিকল্প নেতৃত্ব ঠিক করবেন। কারণ সংগঠন তো একটা জায়গায় বসে থাকতে পারে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গুলশানভিত্তিক সংগঠন পরিচালনা কিংবা ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংগঠনের কাজ মেনে নেওয়া হবে না।’

আরামবাগে ইডেন কমপ্লেক্স এলাকায় গণফোরামের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রস্তুতি সভায় ১৪টি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া সারাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গত কমিটির নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্রের ১৪ ধারায় বলা আছে, কাউকে বহিস্কার করতে হলে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর বাইরে কোনো ব্যক্তি, তিনি যত বড়ই নেতা হোক না কেন, কোন এখতিয়ার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুল হাসিব চৌধুরী, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

যদিও দলটির একাংশের এই কার্যক্রমকে কোনো বৈধতা দিতে চান না গণফোরামের মূল অংশটি। বিক্ষুব্ধদের ওই বর্ধিত সভার পর গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওই কথিত বর্ধিত সভার সাথে গণফোরামের কোনো সম্পর্ক নেই। এভাবে বর্ধিত সভা ডাকার এখতিয়ার কারো নেই।

শনিবার গণফোরামের একাংশের বৈঠকের পর ড. রেজা কিবরিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তাদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির কিছু কাজ রয়েছে। সাংগঠনিক কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে যা এই সভায় অনুমোদন করবো। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ৭০ সদস্যের বলে জানান ড. রেজা কিবরিয়া।

গত ১২ মার্চ এই আহবায়ক কমিটি গণমাধ্যমের পাঠানো হয়। যা ড. কামাল হোসেন অনুমোদন করেন। গত বছরের ৫ মে গণফোরামের কমিটি ভেঙে দেন ড. কামাল হোসেন। এরপর তিনি সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াকে নিয়োগ দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।