রাজনীতি

জনস্বার্থে বড় কর্মসূচি না থাকায় বিএনপিতে হতাশা

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান

বক্তব্য, বিবৃতি আর মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি ছাড়া মাঠে বড় কোনো কর্মসূচি নেই বিএনপির। জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচিই দিতে পারছে না দলের হাইকমান্ড। এ নিয়ে দলে হতাশা রয়েছে। একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন এসব তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা এ প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, নারী নির্যাতনসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। কিন্তু নেতারা মাঠে কোনো কর্মসূচিই দিচ্ছেন না। এতে কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
বিএনপির অপর এক নেতা অভিযোগ করেন, দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মাঠে কোনো কর্মসূচি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে দলের একজন এমপি সমকালকে বলেন, ধর্ষণের ঘটনা এখন বড় ইস্যু। তারা ওইসব স্থানে যাওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মাঠে কর্মসূচি না দিলেও নির্যাতনের শিকার নারীর বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি জানানো উচিত ছিল। এটা দলের জন্য ভালো হতো। এসব সিদ্ধান্ত ওপর থেকে না এলে নিজেদের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অবশ্য বলেন, বিএনপি জনগণের রাজনীতি করে। করোনাকালে দলের পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করা, তাদের পাশে থাকা, সহায়তার মতো বড় কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। দেশে এখন নারী নির্যাতন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদে তারা সরব রয়েছেন। কর্মসূচি পালন করছেন। দায়িত্বশীল দল হিসেবে করোনাকালে বড় জমায়েত কিংবা লোক সমাগমের মতো কর্মসূচি তারা পালন করছেন না। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তারাও ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চারদিকে যা ঘটছে তা মহাব্যাধি। মাঠে এগুলোর প্রতিবাদ করার মতো দল নেই। মেরুদণ্ডে শক্তি থাকলে অবশ্যই বিএনপি মাঠে নামতো। রাজপথে শক্ত প্রতিবাদ করত।
কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। দিনের একটি বড় অংশ স্কাইপের মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও সংগঠনকে এখনও গতিশীল করতে পারেনি দলের হাইকমান্ড। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংগঠনে কোন্দল সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির অনেকেই।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দলকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এর আলোকে বিভাগীয় সাংগঠনিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দিয়ে সারাদেশে দলের সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে প্রত্যেক জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেশকিছু জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। কিন্তু সেই তিন মাসের কমিটি বছর শেষ করলেও নতুন কমিটি আলোর মুখ দেখতে পারেনি। একইভাবে দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিগুলোকেও পুনর্গঠন করতে পারেনি হাইকমান্ড। ছাত্রদল বাদে প্রত্যেকটি সংগঠনের মেয়াদ শেষ হলেও আংশিক কিংবা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে জোড়াতালির কার্যক্রম চলছে। এতে যেমন নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি, তেমনি দলকে গতিশীল করতেও পারেনি।
বছরের পর বছর নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, সাংগঠনিক তৎপরতার নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কাইপে সময় ব্যয় করলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো সফলতা আসেনি। জেলা বিএনপি কিংবা অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের জন্য সারাদেশে গঠন করা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন তৃণমূল নেতাকর্মী। তারা বলছেন, এসব টিমের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় তারা কাউকে সম্মান পর্যন্ত দিতে চান না। বেশিরভাগ জেলায় আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে ওইসব সাংগঠনিক টিম। হাইকমান্ডের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেক জেলার নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দিতেও নারাজ। এতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব টিম গঠন করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তৃণমূল থেকে দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দুই বছর অতিক্রম হতে চললেও কোনো জেলা কিংবা অঙ্গসংগঠনকে শতভাগ ঢেলে সাজাতে পারেনি হাইকমান্ড।

বিষয় : বিএনপি