উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে বিএনপির ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

সদ্য শেষ হওয়া পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ উপনির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল ও পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সোমবার সারাদেশে মহানগর ও জেলায় এবং মঙ্গলবার থানা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ উপনির্বাচনে ক্ষমতাসী দল ও সরকারের প্রশাসনের ভোট কারচুপির ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের মারধর করে বের করে ক্ষমতাসীনরা জাল ভোট দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন ইভিএম দিয়ে ভুয়া ফলাফল তৈরি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছে এবং সেই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের বংশবদ ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে। তিনটি উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন নিবির্কার দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। রিটার্নিং কমকর্তা ধানের শীষের প্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ঢাকা থেকেই ১৬২টা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিনা ভোটের স্বঘোষিত সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য ভোট ডাকাতির কৌশলে জনগণকে আবারো প্রতারিত করলো। 

কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ রকম বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা এখনো বলিনি। গত নির্বাচন যেটা হয়েছে সেটাই তো মানছি না, ওইটাকে অবৈধ বলছি, ওই নির্বাচনকে বাতিল করার কথা বলছি। এই নির্বাচন আমরা মানি না, এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন নির্বাচন দেয়া হোক। 

খালেদা জিয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা সাময়িক স্থগিত হলেও তিনি মুক্ত নন। সাজা স্থগিত হলে তো তার ওপর তো কোনো বিধি-নিষেধ থাকার কথা না। পার্থক্য হচ্ছে- শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকে তাকে তার বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওখানে তিনি বাসার পরিবেশের মধ্যে আছেন। 

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।

চাল-ডাল-পেঁয়াজ-আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি দলের মদদপুষ্ট এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। সারাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযোজন সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়।