বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সাহসী দেশপ্রেমিকদের খুব বেশি প্রয়োজন। দেশে সংকট চলছে। এই সংকটে খুব বেশি প্রয়োজন সাহস, খুব বেশি প্রয়োজন ধৈর্যের, খুব বেশি প্রয়োজন দেশপ্রেমের।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের নীচতলায় সাদেক হোসেন খোকা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৮ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তার জীবনীর ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র গেরিলা থেকে জননেতা প্রদর্শিত হয়। খোকার ওপর দুইদিন আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাদেক হোসেন খোকা ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অত্যন্ত সাহসী বীর এবং রনাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, গেরিলা ছিলেন। আবার তিনিই যখন জনগণের জন্য রাজনীতিতে আসলেন তখন তার সেই সম্পৃক্ততাটা অভাবনীয়ভাবে একেবারে মানুষের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে মিলে গেলো। একেবারে মাটি থেকে উঠে আসা মানুষ ছিলেন সাদেক হোসন খোকা।

তিনি বলেন, খোকা সমস্ত সংকীর্ণতার উর্ধ্বে ছিলেন, তিনি রাজনীতির দলকানা নেতা ছিলেন না। আমি তাকে কখনও দেখিনি যে- তিনি অন্য দলের নেতাদের সমালোচনা করেছেন। আমাকে সবসময় একটি কথা বলতেন, ‘ভাই কখনও ধৈর্য্য হারাবেন না। অনেক ধাক্কা আসবে, ঘাত আসবে, প্রতিঘাত আসবে-এর মধ্য দিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়াটাই আমাদের কাজ।’ মানুষের কল্যাণই ছিলো তার লক্ষ্য, জনগণের মুক্তিই ছিলো তার লক্ষ্য। তিনি জনগণের মানুষ ছিলেন, জনগণের নেতা ছিলেন।

২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্নোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খোকা। পরে দেশে মরদেহ এনে জুরাইন কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বিএনপির সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ, জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিব উন নবী খান সোহেল, জয়নাল আবেদীন, শিরিন সুলতানা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাসির উদ্দিন অসীম, আমিনুল হক, কাদের গনি চৌধুরী, সাদেক আহমেদ খান, সাদেক হোসেন খোকার ছোট ছেলে ইশফাক হোসেন, চাচাতো ভাই মাশরুর হোসেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও প্রয়াত নেতা বন্ধু-বান্ধবরা উপস্থিত ছিলেন।