বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

বিএনপিকে লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা রাজনীতিতে আজ নিজেদের ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে, তারাই নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে। তাদের 'হ্যাঁ, না' ভোটের সেই গণতন্ত্রের ছবি এ দেশের মানুষ দেখেছে। যারা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, আজ তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে 'মিট দ্য রিপোর্টার্স' অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলেন, তারা দেশে রাতের বেলা কারফিউ দিয়ে '৯৬ সালে প্রহসনের নির্বাচন করেছিলেন। অথচ তারাই এখন নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন! সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনেও ৫০-৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে মানুষের অনীহা থাকলে এত ভোট পড়ত না। শুধু ঢাকার একটি আসনের উপনির্বাচনে একটু কম ভোট পড়েছে।

'সরকার জনগণের মনের ভাষা বোঝে না'- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের মনের ভাষা ও চোখের ভাষা বুঝতে পারেন বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত জনপ্রিয়। বিএনপি জনগণের ভাষা বুঝতে পারা তো দূরের কথা, দলীয় কর্মীদের মনের কথাই বোঝে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি 'ঘরে বসার রাজনীতি'। আন্দোলনের ডাক দিয়ে তাদের নেতারা ঘরে বসে থাকেন। এ জন্য কোনো কর্মীও আন্দোলনে সাড়া দেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগ অনেক নির্যাতন সহ্য করেও রাজনীতি করেছে।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগের জবাবে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতির জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনকেও ছাড় দিচ্ছেন না বিচারকরা। দলের অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কিন্তু বিএনপি আমলে একজনকেও শাস্তি দেওয়া হয়নি। বিএনপি অপরাধ করে আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে এসব অভিযোগ করে।

সবসময় দলে কিছু আগাছা ঢুকে পড়ে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তবে আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে সচেতন। অনুপ্রবেশকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করা হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর। অপরাধীদের কোনো দল নেই।

মন্ত্রী জানান, পদ্মাসেতুর ৪০টি স্প্যানের মধ্যে ৩৭টি বসানো হয়েছে। পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই পদ্মাসেতু চালু করা হবে। ঢাকা-মাওয়া এপপ্রেসওয়ে বিদেশকেও হার মানায়। সরকার সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন করছে, ৪৫০ কিলোমিটার সড়ক চারলেন করা হয়েছে। আরও ৫০০ কিলোমিটার চারলেন করার কাজ চলমান। গণপরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতেও প্রকল্পের কাজ চলছে।