মানবতাবিরোধী অপরাধীর পক্ষে মামুনুল হকের সাফাই!

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

মাওলানা মামুনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মাওলানা মামুনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে থাকা আন্দোলন কর্মী ও গণমাধ্যম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হকের সেই স্ট্যাটাসের প্রমাণও মিলেছে। সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের পর তিনি ‘একদিন এই হত্যার বিচার হবেই’ শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করেন।

সেই স্ট্যাটাসে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘‘অবৈধ রায়ের মাধ্যমে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, একদিন না একদিন এই হত্যার বিচার হবেই। আজ রোববার সাকার মরদেহ দাফন শেষে গহিরায় বাইতুল বিল্লাল নামে তাদের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় সাকা চৌধুরীর ছোটভাই জামাল উদ্দিন কাদের উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষ হওয়ার পর ১১টার দিকে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

হুম্মাম কাদের বলেন, ‘অবৈধ রায়ের মাধ্যমে একজন বেকসুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড ন্যায়বিচারের জন্য দেশের মানুষ একদিন ডাক দেবে। একদিন না একদিন এই হত্যার বিচার হবেই।’

সাকা চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি উল্লেখ করে হুম্মাম কাদের বলেন, আমরা যখন শেষ দেখা করতে গেলাম তখন আমার বাবা বলেছেন, ‘৬ ফুট ২ ইঞ্চির তোমার বাবা কারও কাছে মাথা নত করতে পারে না।’

১০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে হুম্মাম বলেন, ‘দেশে অনেক গুম-খুন হচ্ছে। অনেকে আপনজনদের লাশও খুঁজে পাচ্ছে না। সেই দিক থেকে আমরা ভাগ্যবান। আমরা আমাদের বাবাকে সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে পেরেছি।’

সাকার ভাই জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি (সাকা) বলেন, আমি মার্সি (ক্ষমা) চাই। তবে তা রাব্বুল আলআমিনের কাছে, কোনো বান্দার কাছে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে নেজামে ইসলামি পার্টির যুগ্ন মহাসচিব আবদুর রহমান চৌধুরী এবং সাকার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য: সাবাস ফজলুল কাদের ও সালাউদ্দিন চৌধুরীদের যোগ্য উত্তরসুরি! আমরাও রইলাম সেই সুদিনের প্রত্যাশায়।’’

একই দিন ‘কিছুতো বলতেই হয়’ শিরোনামে ফেসবুকে মামুনুল হক আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। মামুনুল লিখেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসি দেওয়া হল। যে সকল মিডিয়া রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের কোনো রকম উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না, তাদেরকেই উল্লসিত দেখা যাচ্ছে। দম্ভের পতন হয়েছে মর্মে নানা রকম শিরোনামে সংবাদ প্রচার করছে।’

‘আমার প্রশ্ন হলো, মৃত্যু মুখেও যারা নিজেদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়ল না, বরং তাদেরকে অপমান করবার জন্য সর্বশেষ ষড়যন্ত্র হিসাবে প্রাণ ভিক্ষার নামে নাটক সাজানো হলো। তোমরা চেয়েছিলে তারা তোমাদের কাছে নতি স্বীকার করুক। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগেও তারা অবিচল থাকল। পরাজয়ের কালিমা কি তবে তোমাদের কপালেই লেপটে গেল না? সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাহসী ভূমিকাই বরং আগামী প্রজন্মের কাছে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। তার ঐতিহাসিক উক্তিগুলো বহুদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে হিন্দুস্তান বিরােধী মুসলিম মানসপটে। জয়তু সালাউদ্দিন। জয়তু বাংলাদেশ। জয়তু ইসলাম।’

এদিকে গত ১৯ নভেম্বর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভে মামুনুল হক দেশের সকল মুসলিম নেতাদের ভাস্কর্য বা মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এই মূর্তি যারই হোক, জিয়াউর রহমানের হোক, এগুলো সরাতে হবে। দেশের মুসলমানরা এই মূর্তি সংস্কৃতি মানবে না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি জাতীয় নেতা হিসেবে আমাদের পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা চাই না একজন মরহুম, একজন মৃত মুসলমানকে নিয়ে এমন কোনও কার্যকলাপ পরিচালনা করা হোক, যে কার্যকলাপের কারণে কবরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনও আজাবের সম্মুখীন হতে হয়।’