নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো হয়। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তবে এ সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। তাতে সরকারের পরোক্ষ মদদ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে, গত ১২ বছরে হিন্দুদের সম্পদ সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আয়োজিত 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা।

সভায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়ত মহাসচিব তথা হেফাজতে ইসলামের নবনির্বাচিত মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নেই। যদি থাকত তাহলে সরকারি সর্বস্তরের চাকরিতে ৩০ শতাংশ পদে সংখ্যালঘুরা নিয়োগের সুযোগ পেত না। সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের সঙ্গে সমান সুযোগ পেয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে। অথচ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে একটি চিহ্নিত মহল গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ূয়া বলেন, যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন, তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারেন না। সব ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম মেনে চললে সংঘাত হতেই পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তের সহসভাপতি আবদুর রব ইউসুফী বলেন, যেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করতে হবে। অশুভ শক্তি যেন বাংলাদেশের শত বছরের সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে ধর্মীয় নেতাদের সজাগ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মোস্তফা তারিকুল হাসান প্রমুখ।