আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকে ক্ষমতার মোহে ধারাবাহিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে আসছে। এজন্য মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হওয়া উচিত।

শনিবার বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রহিম উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপির অতীত ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এদেশের রাজনীতিতে মাস্তান চক্রের জনক। মাস্তানি তাদের হাতিয়ার। বিএনপির হাতে রক্তের দাগ, পোড়া মানুষের গন্ধ। হিজবুল বাহারে নিয়ে যারা মেধাবী ছাত্রদের বিপথে নিয়ে গিয়েছিল, অস্ত্র হাতে তুলে দিয়ে হাজার হাজার মেধাবী তরুণকে বিপথগামী করেছিল, তারাই তো মাস্তানি করে এখন জনবিচ্ছিন্ন।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দেশের মাটি ও মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সাফল্য বলতে তাদের শাসনামলে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চর দখলের মতো হল দখলের রাজনীতির তথাকথিত সাফল্য। বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও জন্ম থেকে অগণতান্ত্রিক চর্চাই বিএনপির ঐতিহ্য। যাদের দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা নেই, তারা কীভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে?

বিএনপি মহাসচিবকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এর কোনো বিকল্প নেই। অযথা দূতাবাসে ছুটোছুটি, গোপন সভা আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে উসকানি দিয়ে লাভ হবে না। সময় হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগে মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী ও অনুপ্রবেশকারীদের কোনো স্থান নেই।

আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-এলাহি কাজলের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুর রহমানের পরিচালনায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দীন ফরাজী, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, আদমীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজু প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট-১ আসনের এমপি শামছুল আলম দুদু, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের ৬১ শতাংশ কাজ শেষ

একইদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টানেলের দ্বিতীয় টিউব খনন কাজের উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, এই টানেল দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম শহর চীনের সাংহাই নদীর মতো হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে।

তিনি বলেন, ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টানেলের দ্বিতীয় টিউবের খনন কাজ আজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রান্ত ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে সংযুক্ত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক হারুন উর রশিদসহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নৌবাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিরা।