বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'দেশের ২৪টি পৌরসভায় নির্বাচনে আগের অবস্থার মতোই রক্তপাত ও ভোট ডাকাতি হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অধিকাংশ পৌর নির্বাচনী এলাকায় তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। সরকারের হার্ড হিটিং ইমেজ বজায় রাখতে ভোটারসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বেপরোয়াভাবে আক্রমণ করেছে। কারণ, আওয়ামী লীগের চেতনাই একতরফা নির্বাচন।'

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া আর বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, 'এই সরকার বন্দুকের জোরে গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারণ বিএনপির অংশগ্রহণের কারণে তাদেরকে বিজয়ী হতে ভোটকেন্দ্র দখল করতে হয়, রাতে নৌকায় সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভরতে হয়, নির্বাচনে সহিংসতা করতে হয়, ভোটারদের ভয় দেখাতে হয়। ফলে তাদের স্বরুপ জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।'

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, 'শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি আর পাচারের সঙ্গে জড়িত এমপি পাপুলের স্ত্রী ও কন্যা জামিন পেয়েছেন। অথচ মিথ্যা অভিযোগে এদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয় না। জামিন হয় না গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের। আইনের শাসন এখন আওয়ামী শাসনে পরিণত হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নয়, আওয়ামী বিচারপতিরা বিরোধী দল নির্মূল করতে বেপরোয়া স্বাধীনতা ভোগ করছেন।'

পৌর নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, 'খুলনার চালনা পৌরসভা পঞ্চগড় পৌরসভা, কুড়িগ্রামে পৌরসভা, কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা, ময়মনসিংহ জেলাধীন গফরগাঁও পৌরসভা, মানিকগঞ্জে সদর পৌর নির্বাচনে সকাল থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কুরুক্ষেত্র বানিয়েছে। বিএনপির এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে, তাদের ওপর করা হয়েছে পৈশাচিক আক্রমণে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।'

দ্রব্যমূল্য বাড়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, 'দেশে কোনো সরকার আছে বলে জনগণ মনে করে না। সরকারি দলীয় সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সরকারের মন্ত্রীদের কাছেও যায় বলে শোনা যায়। তাই বাজার হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রণহীন।'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।