ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বড় শোডাউনে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

সংলাপ বহুদূর, রাজপথেই নজর

বড় শোডাউনে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

অমরেশ রায়

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১০:৪৭

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। স্ব-স্ব অবস্থানে অনড় সরকারি ও রাজপথের বিরোধী দল। সংলাপ ও সমঝোতার কোনো লক্ষণ নেই। পাল্টা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখলে নিতে প্রস্তুত দুই দল। আজ নয়াপল্টনে জনসমাবেশ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পাল্টা সমাবেশ থেকে কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগও। পূজার পরপরই শুরু হবে রাজপথে ‘ফয়সালা’র লড়াই


বিরোধীরা যতই লাগাতার আন্দোলন ও সরকার পতনের হুমকি দিক, কোনোভাবেই মাঠ ছাড়বে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও তার মিত্রদের জনসমাবেশের দিন আজ বুধবার রাজধানীতে আবারও শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দলটি। এ সমাবেশের পাশাপাশি রাজধানীতে সতর্ক অবস্থানে থেকে আরেক দফা শোডাউনও করবে সরকার সমর্থকরা।

সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে আজ ঢাকায় জনসমাবেশ করবে আন্দোলনরত বিএনপি ও তার মিত্ররা। তাদের এসব কর্মসূচির বিপরীতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এবারের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের ইস্যু হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’কে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে বরাবরের মতো এ সমাবেশ থেকেও বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য-সন্ত্রাস ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করবেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

নেতারা বলছেন, আজকের শান্তি সমাবেশকে ঘিরে আবারও রাজধানীতে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এজন্য মহানগর দক্ষিণের থানা-ওয়ার্ড নেতাদের সমাবেশ দুটিতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার সমর্থক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ জনপ্রতিনিধিদেরও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কর্মসূচি সফল করতে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে রেখেছেন তারা। এছাড়া বিএনপি ও মিত্রদের কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উভয় অংশের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন নেতাকর্মীরা। রাজধানীর কোথাও সহিংসতা-নাশকতার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া মাত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকার সমর্থকরাও প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।

বিএনপি ও তার মিত্রদের আগের কর্মসূচিগুলোকে ঘিরেও মাঠে অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগের। গত ডিসেম্বরে বিএনপি ও তার মিত্রদের আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই সরকারবিরোধীদের কর্মসূচির দিনটিতে শান্তি সমাবেশ ও সতর্ক অবস্থানের কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এ অবস্থায় গত ১২ জুলাই বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার পতনের একদফা ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি জোরালো করে আওয়ামী লীগও। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথ নিজেদের দখলে রেখে বিরোধী দলের সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলার এমন রাজনৈতিক কৌশল অব্যাহত রাখা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন তারা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী সমকালকে বলেন, বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশসহ রাজপথে সতর্ক অবস্থানের কর্মসূচি পালন করে আসছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি বলেন, শান্তি সমাবেশের কর্মসূচিগুলো আগে থেকেই পালন করে আসছি। নেতাকর্মীরাও সবসময়ের জন্য প্রস্তুত থাকেন।

আরও পড়ুন

×