গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ফেলানী হত্যা দিবসে আমাদের নিজেদের স্বার্থে দুটি কাজ করতে হবে। দুটি ভাস্কর্য করতে হবে। একটি কুড়িগ্রামের সীমান্তে, যেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনের রাস্তায়। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানায় শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ফেলানী হত্যা দিবসে সীমান্ত আগ্রাসনবিরোধী কনভেনশনে তিনি এ কথা বলেন। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চৌধুরীহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, 'বাংলাদেশ এখন একটি প্রতারণার স্বর্গরাজ্য, বাংলাদেশ লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ইউরোপে যেখানে ২ ডলার, সেখানে আমাদের সাড়ে ৪ ডলার বা ৫ ডলার কেন হবে। কারণ আমরা চুরি করি, দুর্নীতি করি, সেই কারণে ভ্যাকসিনের দাম বাড়ছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যয় খুব কম। যদি এক ডলার দাম হয় তাহলে ৪০ টাকা লাভ হবে।' 

তিনি বলেন, 'আজ সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে, কেন আমি ভোট দেব। কেন আমার ভোট চাই। এই দেশের মালিক আমরা। তাই যদি হয় তাহলে দেশ পরিচালনায়, শাসনে আমাদের বক্তব্য রাখার অধিকার থাকতে হবে। সমালোচনা করার অধিকার থাকতে হবে। জবাবদিহি করার অধিকার থাকতে হবে।'

ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, 'বাংলাদেশ দখল করা ছাড়াই ভারতের সিকিম রাজ্যে পরিণত হবে। আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখা ছাড়া মুক্তির উপায় নাই। বাংলাদেশে গণতন্ত্র না আসার একমাত্র কারণ আওয়ামী লীগ নয়, বিরোধী দলও সমভাবে দায়ী।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, 'র‌্যাবের অভিযানে হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিমকে আটক করার পরে আইনবহির্ভূত বিদেশি মদ, অস্ত্র, ওয়াকিটকিসহ অনেক অবৈধ দ্রব্য সংরক্ষণের দায়ে দুটি মামলার একটিতে ৬ মাস এবং আরেকটি মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার আলোচনা শেষ হওয়ার পরেই পুলিশ তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। পুলিশ বলছে- সেরকম কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন কে মিথ্যাবাদী, পুলিশ নাকি র‌্যাব?'

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, 'দেশে বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, ৩০ ডিসেম্বর ছিল ভোট ডাকাতির নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণের নির্বাচন। তাহলে আপনারা কেন সেদিন রাজপথে নামেননি? আমরা ছোট পরিসরে হলেও আন্দোলন করেছি; কিন্তু আপনারা এত বড়ো দল হয়েও কেন শুধু প্রেস ক্লাবে পড়ে থাকবেন? সেদিন কেন বিক্ষোভ মিছিল করেননি?'

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণস্বাস্থ্যের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।