জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘মিথ্যাচারের কালো দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বিভ্রান্তিকর, দুরভিসন্ধিমূলক ও অন্তঃসারশূন্য কথামালার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশবাসী তার এই ভাষণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের যুগপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের তথাকথিত উন্নয়ন, মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, স্বাস্থ্যখাতের ইতিবাচক পরিবর্তন, আইনের শাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানসহ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা মিথ্যাচারের কালো দলিল।

তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণ আজ যেন নিজ দেশে পরাধীন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত নন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিথ্যাচার ও প্রতিহিংসার শিকার। গত এক যুগ ধরে দেশে আওয়ামী শাসন-শোষণ-নিপীড়ন-নির্যাতন-গুম-খুন-লুণ্ঠন। শুধু সরকারের ক্ষমতার খায়েশ মেটাতে দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করে দেওয়া হচ্ছে।

রিজভী বলেন, দেশটাকে পরিণত করা হয়েছে দুর্নীতিবাজদের অভায়রণ্যে। এক দশকে দেশ থেকে নয় লাখ কোটি টাকা পাঁচার করে দেওয়া হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছে। দেশের টাকা বিদেশে পাঁচার করে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজরা কানাডায় গড়ে তুলেছে বেগমপাড়া, বিভিন্ন দেশে গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র হত্যা, ভোটাধিকার হরণ, খুন, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, টাকা পাঁচার, দুর্নীতি-লুণ্ঠন ও দুর্বৃত্তায়ন, দুঃশাসনের একযুগ পার করল বাংলাদেশ। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে ক্ষমতাসীন দুষ্টচক্র মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য-মানবাধিকার-ন্যায় বিচারকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়ে জনগণকে বোকা বানাতে তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান তুলেছে। যারা গণতন্ত্র হরণ করে মানুষের বাক স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কথিত উন্নয়নের একযুগ পূর্তি করতে চান তাদেরও পতন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেওয়া উন্নয়নের পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, দেশের মানুষকে যদি না খেয়ে রাত কাটাতে হয়, স্বল্প আয়ের মানুষরা যদি খেয়ে পড়ে বাঁচার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে না পারে, শিশুরা যদি স্কুলে যেতে না পারে তাহলে কিসের উন্নয়নের গল্প, কিসের জিডিপির প্রবৃদ্ধির উদ্ভট গল্প। তাদের এক যুগের সফলতা হলো-দেশের মানুষ এখন মৃত্যু আতঙ্কে ভুগছে, জীবিকার চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে।

টিকা নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা টিকা নিয়েও আওয়ামী লীগের মাস্টার প্ল্যান জনগণের কাছে পানির মতো পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, করোনা টিকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। ভারতই নাকি টিকা রপ্তানি করবে। কিন্তু ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছেন, বাংলাদেশে কবে টিকা আসবে, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক মামুন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।