সম্মেলনের দীর্ঘ ১৩ মাস পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। 

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়ার কথা সমকালকে নিশ্চিত করেন।

২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে একযোগে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে মহানগরে সভাপতি পদে চারজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১২ জন এবং জেলায় সভাপতি পদে সাতজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে নয়জন প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সম্মেলনে সমঝোতার ভিত্তিতে উভয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

সম্মেলনে ঘোষিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হন অধ্যাপক জাকির হোসেন। অন্যদিকে জেলায় সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাসির উদ্দিন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর তারা কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা ও মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেন। তবে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে অনুমোদন বিলম্বিত হয়।

প্রায় চার মাস পর অবশেষে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো। প্রস্তাবিত কমিটিতে দলের ত্যাগী ও নিবেদিত অনেককে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও অনুমোদিত কমিটিতে বিগত কমিটির অধিকাংশ নেতা রয়েছেন। বিশেষ করে জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি রাখা হয়েছে। মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন দ্বিতীয় সহ-সভাপতি হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে মহানগরের প্রথম সদস্য করা হয়েছে। জেলায় মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সহ-সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদকে সদস্য রাখা হয়েছে। বিগত কমিটিতে ইমরান আহমদ সহ-সভাপতি ছিলেন। জেলায় প্রথম সদস্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

মহানগরের সাবেক সভাপতি প্রয়াত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতাকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

মহানগর কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মফুর আলী, সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক, জিএমজেড কয়েস গাজী, ফয়জুর রহমান আনোয়ার, বিজিত চৌধুরী, নুরুল ইসলাম পুতুল, প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, মো. ছানাওর, হেলাল বক্স ও জগদীশ চন্দ্র দাশ।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এটিএম হাসান জেবুল, আজাদুর রহমান আজাদ ও বিধান কুমার সাহা।

আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মখলিছুর রহমান কামরান, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এহিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুর রহমান জামিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন লোকমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. জুবের খান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম আহমদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ পুরকায়স্থ, শ্রম সম্পাদক আজিজুল হক মঞ্জু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. হোসেন রবিন।

তিন সাংগঠনিক সম্পাদক হচ্ছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম ও ডা. আরমান আহমদ শিপলু।

উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী রণি, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শোয়েব আহমদ ও কোষাধ্যক্ষ হলেন লায়েক আহমদ চৌধুরী।

সদস্যরা হলেন- ড. একে আবদুল মোমেন, আজম খান (কাউন্সিলর), এসএম আমজাদ হোসেন আমজাদ, দিবাকর ধর রাম, আবদুল আহাদ চৌধুরী মিরণ, প্রিন্স সদররুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর, মো. আবদুল আজিম জুনেল, নুরুন নেছা হেনা, শান্তনু দত্ত সন্তু, আজম খান (মজুমদারী), মো. শাহজাহান, মোক্তার খান, জাহিদ সরওয়ার সবুজ, রাহাত তরফদার, এমরুল হাসান, সুদীপ দে, সাব্বীর খান, সৈয়দ কামাল, সাইফুল আলম স্বপন, তাহমিন আহমদ, রোকসানা পারভিন, ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, জাফর আহমদ চৌধুরী, লিপন বক্স (কাউন্সিলর), জামাল আহমদ চৌধুরী, খলিল আহমদ, আবুল মহসিন চৌধুরী মাসুদ, মহসিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সুহেদ, শিপা বেগম সুপা, অ্যাডভোকেট তারান্নুম চৌধুরী, জুমাদিন আহমদ, রকিবুল ইসলাম ঝলক (কাউন্সিলর), মাহফুজ  চৌধুরী জয় ও ইলিয়াছ আহমদ জুয়েল।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিনকে জাতীয় পরিষদের সদস্য করা হয়েছে।

জেলা কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, আশফাক আহমদ, অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, ড. আহমদ আল কবীর, ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ছাদ উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, নাজনীন হোসেন।

তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন হুমায়ূন ইসলাম কামাল, মো. আলী দুলাল ও কবীর উদ্দিন আহমদ।

আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমল আলী, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. মবশ্বির আলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সৈয়দ এফতার হোসেন পিয়ার, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রইছ আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ হিরা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার মিনু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কবীর উদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী, শ্রম সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামসুল আলম সেলিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মো. শাকির আহমদ শাহীন।

তিন সাংগঠনিক সম্পাদক হচ্ছেন অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সাইফুল আলম রুহেল ও অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার। উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. মজির উদ্দিন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মতিউর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ হলেন শমসের জামাল।

সদস্যরা হলেন- অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ইমরান আহমদ, লোকমান উদ্দিন আহমদ, মো. ইব্রাহিম, আবদুল হাসিব মনিয়া, মোস্তাকুর রহমান মফুর, মো. নিজাম উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, সরওয়ার হোসেন, আবু জাহেদ, আখলাকুর রহমান চৌধুরী সেলিম, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহাদত রহিম, আবদাল মিয়া, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, শহিদুর রহমান শাহীন, আনহার মিয়া, আবদুল বাছিত টুটুল, নূরে আলম সিরাজী, কামাল আহমদ, এম ক শফি চৌধুরী এলিম, আবদুল বারী, আবু হেনা মো. ফিরোজ আলী, আমাতুজ জোহরা রওশন জেবিন, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট আফসর আহমদ, অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনসুর রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান লেবু, জাহাঙ্গীর আলম, শাহিদুর রহমান চৌধুরী, আবুল লেইছ চৌধুরী, গোলাপ মিয়া ও ডা. নাজরা আহমদ চৌধুরী।