ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে স্বাবলম্বী তরুণ সমাজ গঠনে ২০২১ সালের মধ্যে ‘তরুণ উদ্যোক্তা নীতি’, একটি দক্ষ ও কর্মঠ যুবসমাজ তৈরিতে ২০২৩ সালের মধ্যে ‘কর্মঠ প্রকল্প’ এবং প্রতি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে স্বল্প ও অদক্ষ তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেবে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি ধাপ হিসেবে ‘ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং’ কার্যক্রম ‘কর্মজীবনের কর্মশালা’ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘কর্মজীবনের কর্মশালা: তরুণদের কর্মদক্ষতা ও কর্ম-পরিকল্পনা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মসূচি’ শীর্ষক এ উদ্যোগ, যার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটি। এতে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

এ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণ-তরুণীদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল দেশের তরুণদের পাশে এভাবে দাঁড়িয়েছে।

তিনি এও বলেন, শুধু তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই নয় বরং এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোন পেশাগুলো সম্ভাবনাময় সে বিষয়ে অগ্রিম ধারণা থাকলে তরুণরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

‘ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং’-এর মূল লক্ষ্য বিনামূল্যে সেসব প্রশিক্ষণ দেওয়া, যার জন্য সাধারণত অর্থ খরচ করতে হয়। এছাড়াও এখানে কর্মজীবন গুছিয়ে নিতে পেশাদার দিকনির্দেশনা দেওয়া, স্বপ্নের পথে কীভাবে এগিয়ে যাবে সেই পথপ্রদর্শন এবং অভিভাবকদের এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্তির মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত করা।

‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ‘ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং’ কার্যক্রম। ৪০ হাজার তরুণকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত করে ক্যারিয়ার গঠনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এ থেকে।

আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল খালেক জানান, আওয়ামী লীগকে প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর দেশ গঠনে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ অনেকদূর এগিয়ে যায়। কিন্তু তারপর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসার পর দেশকে তারা পিছিয়ে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের অত্যাচার নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা জানান, শেখ হাসিনার হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সেই শক্তির থাবা থেকে বাংলাদেশ মুক্তি লাভ করেছে। এখন দেশ গঠনে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

সিআরআইয়ের সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ বলেন, তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বরাবরই বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ক্যারিয়ার কাউন্সিলিংয়ের এই কার্যক্রম শুরু করেছি আমরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এই কার্যক্রম।

মোট চার ধাপে পরিচালনা করা হবে এই ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং কার্যক্রম। এর কারিকুলামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পেশা ও বিষয় ভিত্তিক অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের দিয়ে এক বা একাধিক টিউটোরিয়াল ও ভিডিও প্রস্তুত করা হবে। এছাড়াও সিভি লেখা থেকে শুরু করে চাকরির আবেদন বা কোনো উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম পূরণ সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোকপাত করা হবে। সেইসঙ্গে প্রতিটি গ্রুপের চাহিদা অনুসারে ব্যাচ ভিত্তিতে নিজ নিজ ফিল্ডের পথপ্রদর্শকদের সঙ্গে থাকবে আলোচনার ব্যবস্থা।

তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলে ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করার মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করা হবে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে। ২০১৮ সালে ঘোষিত ইশতেহার অনুসারে পরবর্তী পাঁচ বছরে এক কোটি ২৮ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন

আগ্রহীরা career.albd.org এই ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে আবেদন করতে পারবেন। ৯ জানুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

বিষয় : আওয়ামী লীগ তরুণ সমাজ গঠন

মন্তব্য করুন