এবার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের অভিযোগ আনলেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেছেন, ‘সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়েও তাকে ধমক দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি সংবাদ সম্মেলন না করেন।’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের মির্জা এসব অভিযোগ করে আরও বলেছেন, ‌‘তার মুখ বন্ধ করার জন্য ওবায়দুল কাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছেন। রাসেল নামে একজন আছে, ঢাকায় ধান্ধা করে খায়, তাকে দিয়ে ধমক দিয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার পর স্থগিত কর্মসূচি আবারও দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের মির্জা বলেছেন, আওয়ামী লীগের একটা মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সেই মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। তিনি দেখতে চান, ওবায়দুল কাদের তার ভাই নাকি ওবায়দুল কাদেরের ভাই একরামুল করিম চৌধুরী আর নিজাম হাজারী। সেই সঙ্গে তার পরিবার রাজাকার নাকি রাজাকার নয়, এর প্রমাণও সম্ভাব্য ওই মিটিংয়ে প্রমাণ মিলবে। এসবের সমাধান না হলে তিনি তার কর্মসূচি শুরু করবেন। তিনি কখনোই তার অবস্থান থেকে সরবেন না।

'ওবায়দুল কাদেরের পরিবার রাজাকার পরিবার'- নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কাদের মির্জা বলেছেন, 'আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সন্তান! ১৯৭১ সালে ওবায়দুল কাদের আমাদের এলাকার মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। আমি তখন ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমি আমার স্কুল থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম। এ জন্য বেত্রাঘাত করে আমাকে স্কুলছাড়া করা হয়েছিল। এত বছর আওয়ামী লীগের পেছনে সময় দিয়েছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আজ অনেক কষ্ট লাগে যখন শুনি, আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সদস্য!

তিনি আরও বলেছেন, 'ওবায়দুল কাদের তার পদ-পদবির জন্য মাথানত করতে পারেন। কিন্তু আমি এক দিনের জন্যও একরামুল করিম চৌধুরীকে ছাড়ব না। তার বিরুদ্ধে কথা বলেই যাব। সে তার ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। আমি অস্ত্রের রাজনীতি করি না। আমার গাড়িগুলো দেখেন, কয়েকটা লাঠি হয়তো থাকতে পারে। এর বাইরে কিছু পেলে বিচার করুন।'

কাদের মির্জা বলেছেন, 'অস্ত্র নিয়ে অনেক মায়ের বুক খালি করা হয়েছে। শপথ নেওয়ার জন্য বসুরহাট যাওয়ার পথে নিজাম হাজারীর নির্দেশ এবং দিদারের তত্ত্বাবধানে সোহেল ও সাইফুল নামে সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে আমার গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। সেদিন হঠাৎ করে একটা ট্রাক আসায় আমার গাড়ি রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু আমার গাড়ি বহরের অন্য গাড়িগুলো হামলার মুখে পড়েছে। একরামের মতো আমাকেও হত্যার জন্য নিজাম হাজারী, দিদার, সোহেল এবং একরামুল করিম চৌধুরীরা ৫০ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করেছেন।'

এসব বিষয়ে বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিচার পাননি জানিয়ে কাদের মির্জা বলেন, তার ওপর আক্রমণের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এরপর চার দিনে একটা পিঁপড়াও গ্রেপ্তার হয়নি। এই জন্যই তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, ওবায়দুল কাদের তার ক্ষমতার জন্য নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারেন। কিন্তু তার চ্যালেঞ্জ- তার পরিবার রাজাকার, এমনটা কেউ প্রমাণ করতে পারলে তিনি নিজের বুকে গুলিবর্ষণ করে নিজের জীবন নিজেই বিসর্জন দেবেন। নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলার ব্যাখ্যায় কাদের মির্জা বলেন, 'অনেক কষ্ট ও দুঃখ-বেদনা থেকে কথাগুলো বলছি। আমি কোনো দিন ওনার (ওবায়দুল কাদের) কাছে ১০ টাকা সহযোগিতা নেওয়ার জন্য আসিনি। কোনো কাজ পাওয়ার জন্য আসিনি। ৪৭ বছর ওনার নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তদারকি করেছি। আজ আমি লাঞ্ছিত হচ্ছি। অথচ আমাকে চুপ করে থাকতে বলা হচ্ছে। মাথা ঠাণ্ডার রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমার ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চলছে, অথচ তাদের লালনপালন করা হচ্ছে। ওপরে আল্লাহ আছেন।'