বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার ও ফেরত আনার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকার তার শাসন টিকিয়ে রাখতে এবং সীমাহীন লুটপাট-দুর্নীতির স্বার্থে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিণত হয়েছে নখদন্তহীন বাঘে।

সোমবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত দুদক অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে নেতারা এ কথা বলেন। এ দিন সকালে রাজধানীর পল্টন মোড়ে এ সমাবেশ হয়।

জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, ইউসিএলবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনিরউদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক প্রমুখ। পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

নেতারা আরও বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটপাটের শিকার হওয়ায় আর্থিক খাতে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দফায় দফায় শেয়ারবাজার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। এমনকী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী।

তারা বলেন, এসব দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনায় জড়িত রাঘববোয়ালদের দুদক এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনতে পারেনি। লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপের বাইরে দুদক এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের হোতাদের ধারেকাছেও পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে না। দুদকের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই দায়িত্ব তাদের পালন করতে হবে। না হলে পদ ছাড়তে হবে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে দুর্নীতি-লুটপাটকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ফেরত আনার জন্য দুদককে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মিছিলে বাধা দিলেও বাম জোটের নেতাকর্মীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলার অঙ্গীকারে নানা স্লোগান দেন।