গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলন নিয়ে নতুন করে মিথ্যাচার করছে। তারা বলছে, ভাষা আন্দোলনের মূল নেতা নাকি শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ কথা শুনে লজ্জা পেতেন। ওই সময় তিনি ফরিদপুরের জেলে ছিলেন। এখন বঙ্গবন্ধু থাকলে বলতেন, ভাষা আন্দোলনের জন্য গাজীউল হক, মওলানা ভাসানী, তর্কবাগীশদের কথা বলো।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) উদ্যোগে 'স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা ঘোষণা দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই নেতাকে আবিস্কারের জন্য সরকারকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তার অসত্য কথার জন্যও তাকে এই পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেছেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নাকি শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেছিলেন। অথচ ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান তো এমপিই হননি। তাহলে কেমন করে সংসদে তিনি প্রস্তাব করলেন? সেটা তো করেছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত- যাকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেছে। তার কথা না বলে তারা এই মিথ্যাচার করছে। তিনি এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান।

'প্রধানমন্ত্রীর পাশে কেউ নেই' দাবি করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরীসহ কেউ প্রধানমন্ত্রীর পাশে নেই। প্রধানমন্ত্রী বড় একা। তিনি একরকম বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগ ভুল পথে চলছে। মাঝিবিহীন এই নৌকা একটু ধাক্কা দিলেই ডুবে যেতে পারে।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বিএনপির অনেক বড় বড় নেতা থাকলেও তারা বধির ও অন্ধ হয়ে গেছেন। সরকার একের পর এক ভুল করলেও তারা শুধু দেখেই যাচ্ছেন, কিছুই করতে পারছেন না। আপনাদের এখন একটাই ইস্যু- খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাও মেরুদণ্ড সোজা করে মুক্তি চাইতে সাহস পান না। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই সরকার জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নিতে চাচ্ছে। এর কারণ হলো, গতি ঘুরানো। যারা এই হীন কাজে সম্পৃক্ত তারা শুধু জিয়াউর রহমানকেই নয়, বঙ্গবন্ধুকে ছোট করছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ বলেন, আজ শহরের অফিস-আদালত, মাদ্রাসা-মক্তব সব খোলা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো খুলে দিলে সরকার পতনের আন্দোলন হতে পারে। এই সপ্তাহেই স্কুল-কলেজ খুলে দিন। আমি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে করোনোর টিকা দেওয়া সরকারের শুভবুদ্ধির পরিচয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ১৯৭০ সালে যারা স্বাধীন পূর্ব বাংলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের নাম ইতিহাসে নেই। আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের ফেরি করে বেড়ান, তারা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও এএসএম শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।