স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, এই স্বাধীনতা শুধু কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। স্বাধীনতা এদেশে যারা সোনালি ফসল ফলায়, যারা শ্রম দিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, তাদের সকলের। প্রবাসী শ্রমিকের, গার্মেন্টসে কর্মরত মা-বোনের, ক্ষেতে রোদে পোড়া-বৃষ্টিতে ভেজা কৃষকের, ছাত্র-যুবক সব পেশাজীবীর।

তিনি বলেন, 'আসুন পঞ্চাশ বছর পরে আমরা নতুন করে শপথ নিই- ১৯৭১ সালের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তাহলেই একটি উদার গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।' 

সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব জেড ফোর্সের কমান্ডার ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা যখন সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি, তখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের চক্রান্ত চলছে। অনির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী সরকার এই চক্রান্ত করছে।'

এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গুম-খুন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলা, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, গুলি, গ্রেপ্তার, কারাগারে সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যু, কারাগারের থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত। গণতন্ত্রের ভুয়া মোড়কে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠন করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সকল আশা ভেঙে খান খান করেছে সরকার। এই ৫০ বছরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা দূরে থাকুক, আরও বিভক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতাকে সংহত করার চেয়ে আরও দুর্বল করা হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। এমন একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র গঠন করা হচ্ছে যেখানে ন্যায়বিচার দুষ্পাপ্য। বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভ্রান্ত ইতিহাস জানিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তারা সুবর্ণজয়ন্তীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেই সত্যকে স্পষ্ট করতে চান।

তিনি বলেন, সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হয়েছে। অর্থনীতি গুটিকয়েক দলবাজ ব্যবসায়ীর করায়ত্তে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরুদ্ধ, সংবিধান ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কভিড সংক্রমণে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত এবং পরে দলের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশনা করেন। এ সময় সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি এবং একাত্তরের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বলের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জিয়াউর রহমানের ওপর প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, জাপান, জাতিসংঘ, ইউএসএইড, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য সচিব ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের পরিচালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লা বুলু, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, উকিল আব্দুস সাত্তার, ভিপি জয়নাল আবেদীন, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিজন কান্তি সরকার, সুকোমল বড়ুয়া, এনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, জহিরউদ্দিন স্বপন, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মীর হেলালউদ্দিনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।